পেত্নীর পুকুর

বাংলার এক প্রত্যন্ত গ্রামে ছিল একটি রহস্যময় পুকুর, যেটাকে সবাই বলত "পেত্নীর পুকুর"। কেউ সন্ধ্যার পর সেখানে যেত না। গ্রামের বয়স্করা বলত, পুকুরটার নিচে ডুবে থাকা এক নারীর আত্মা এখনও সবার জন্য অপেক্ষা করে।

কেউ বিশ্বাস করত, কেউ করত না।

একদিন শহর থেকে রিয়া নামের এক ছাত্রী গবেষণার কাজে গ্রামে এল। ভূত-প্রেত সে মানত না। গ্রামবাসীদের মুখে গল্প শুনে সে মুচকি হেসে বলল,
— “ভূত বলে কিছু নেই। সবই কুসংস্কার।”

রিয়া ঠিক করল, রাত বারোটায় সেই পুকুরের ধারে যাবে। সঙ্গে নিল টর্চ আর মোবাইল ক্যামেরা — প্রমাণ করার জন্য।

রাত ১২টা বাজতেই সে একা একা পুকুরের ধারে গিয়ে দাঁড়াল। চাঁদের আলোয় চারদিক থমথমে, কেমন একটা অস্বস্তিকর নিস্তব্ধতা। হঠাৎ একটা ঠাণ্ডা হাওয়া বয়ে গেল।



পুকুরের জল হঠাৎ কাঁপতে শুরু করল — যেন কারও শ্বাস পড়ছে জলের ওপর।

রিয়া ক্যামেরা অন করল, কিন্তু কিছুই ধরা পড়ল না। তখনই পেছন থেকে কেউ বলল,
— “তুই আমার জায়গায় কেন এলি…?”

রিয়া ঘুরে দেখল — এক সাদা কাপড় পরা মহিলা, মুখে কোনো চোখ নেই, শুধু দুটো ফাঁকা গহ্বর!

রিয়া দৌড় দিল, কিন্তু পা চলছিল না। চারদিক থেকে পানির গন্ধ, আর নারীকণ্ঠে করুণ কান্না।

সকালে গ্রামের লোকেরা রিয়াকে পুকুরের ধারে পড়ে থাকতে দেখল — ভয়ংকরভাবে চিৎকার করছে, কাঁপছে। জিজ্ঞেস করতেই সে শুধু বলল,
— “ওর চোখ চাই… ওর চোখ ফেরাও… না হলে কেউ বাঁচবে না…”

তারপর থেকে গ্রামের সবাই আবার বিশ্বাস করতে শুরু করল — পেত্নীর পুকুর এখনো অভিশপ্ত। আর রিয়া?

সে এখন পুকুরটার পাড়েই থাকে, চুপচাপ… মাঝেমাঝে রাতের বেলা কেউ কেউ তার গলায় শোনা যায় সেই ভয়ানক বাক্যটা —
“তুই আমার জায়গায় কেন এলি…”

Next Post Previous Post