রাতটা অদ্ভুত নীরব ছিল

আকাশে চাঁদ নেই, শুধু কালো মেঘ আর মাঝেমধ্যে বিদ্যুতের ক্ষীণ ঝলকানি। গ্রামের শেষ প্রান্তে পুরনো এক বাড়ি—যেটাকে সবাই “শ্মশান বাড়ি” বলে ডাকে। বহু বছর ধরে সেখানে কেউ থাকে না।

রাহাত সাহসী ছেলে। এসব ভূতের গল্পে তার বিশ্বাস নেই। বন্ধুরা চ্যালেঞ্জ করেছিল—“যদি এত সাহস থাকে, তবে আজ রাতটা ওই বাড়িতে কাটিয়ে দেখাও।”
হাসতে হাসতেই রাজি হয়ে যায় সে।

রাত বারোটার দিকে রাহাত বাড়িটায় ঢোকে। দরজাটা ঠেলে খোলার সঙ্গে সঙ্গে কর্কশ শব্দে যেন পুরো বাড়িটা কেঁপে ওঠে। ভেতরে ঢুকে সে দেখে, সব কিছু ধুলায় ঢেকে আছে। দেয়ালে পুরনো ছবি, যেগুলোর চোখ যেন তার দিকে তাকিয়ে আছে।

হঠাৎ দরজাটা ধপ করে বন্ধ হয়ে যায়।

রাহাত চমকে ওঠে। “হাওয়া,” নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করে সে। কিন্তু বুকের ভেতরটা কেমন যেন ঠাণ্ডা হয়ে আসে।

একটা শব্দ শোনা যায়—টুপ... টুপ... যেন কোথাও পানি পড়ছে। সে শব্দ অনুসরণ করে রান্নাঘরের দিকে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে, মেঝেতে লাল কিছু জমে আছে। কাছে গিয়ে বুঝতে পারে—ওটা পানি না, রক্ত।



ঠিক তখনই পেছন থেকে কারও ফিসফিসানি—
“তুমি এসেছো... অবশেষে…”

রাহাত ঘুরে দাঁড়ায়। কিন্তু কেউ নেই।
তারপর আবার সেই কণ্ঠ—এইবার একদম কানের কাছে—
“অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম…”

রাহাত দৌড় দিতে যায়, কিন্তু দরজাটা খুলছে না। জানালাগুলোও বন্ধ। হঠাৎ দেয়ালের ছবিগুলো একে একে নিচে পড়ে যেতে শুরু করে। প্রতিটা ছবিতে একই মুখ—একটা মেয়ে, যার চোখ দুটো কালো গহ্বরের মতো।

আলো নিভে যায়।

অন্ধকারে শুধু শোনা যায় পায়ের শব্দ—ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে
রাহাত চিৎকার করে ওঠে, “কে ওখানে?!”

হঠাৎ বিদ্যুতের ঝলকানিতে সে তাকে দেখতে পায়—
মেয়েটা তার ঠিক সামনে দাঁড়িয়ে। মুখে বিকৃত হাসি, চোখ নেই, শুধু শূন্য গর্ত। তার গলা কাটা, আর সেখান থেকে রক্ত ঝরছে।

মেয়েটা ফিসফিস করে বলে—
“তুমি এখন আমার জায়গায় থাকবে…”

পরদিন সকালে গ্রামের লোকজন বাড়ির দরজা খোলা দেখতে পায়। ভেতরে গিয়ে তারা শুধু একটা জিনিসই খুঁজে পায়—
দেয়ালে নতুন একটা ছবি ঝুলছে।

ছবিতে রাহাত দাঁড়িয়ে আছে, তার চোখ দুটো সম্পূর্ণ কালো। আর তার পেছনে দাঁড়িয়ে সেই মেয়েটা—হাসছে।

Previous Post