অন্ধকার রাতের অজানা আতঙ্ক

শহর থেকে অনেক দূরে একটি ছোট গ্রাম। গ্রামের শেষ প্রান্তে ছিল একটি পুরনো, পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ি। বহু বছর ধরে কেউ সেই বাড়িতে যায়নি। মানুষের মুখে মুখে শোনা যেত, রাতে সেখানে অদ্ভুত আওয়াজ শোনা যায়—কখনো কারো কাঁদার শব্দ, কখনো শিশুর হাসি। কেউ কেউ বলত, রাতের বেলায় বাড়ির জানালায় সাদা পোশাক পরা মেয়েকে দেখা যায়। একদিন, গ্রামে এক তরুণ সাংবাদিক, অর্ঘ্য, এসেছিল। পুরনো বাড়ির ভৌতিক গল্প শুনে সে ঠিক করল, রহস্যটা উদঘাটন করবে। তার ক্যামেরা আর টর্চ নিয়ে রাতের বেলায় সে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করল। বাড়ির দরজা ঠেলে খুলতেই ভেতর থেকে শীতল বাতাসের ঝাপটা এল। দেয়ালের ফাটল দিয়ে ঢোকা চাঁদের আলোয় ধুলো জমা আসবাবপত্র আর মাকড়সার জাল দেখা যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই, সিঁড়ির ওপর থেকে কারো পায়ের আওয়াজ শোনা গেল। অর্ঘ্য ভয়ে কেঁপে উঠল। কিন্তু সাহস করে ক্যামেরা নিয়ে এগিয়ে গেল। সিঁড়ির ওপরে উঠতেই সে দেখল, একজন মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার সাদা পোশাক, এলোমেলো চুল, আর ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত হাসি। মেয়েটি বলল, “তুমি আমাকে দেখতে এসেছো, তাই না?”
অর্ঘ্য কাঁপা গলায় জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কে?” মেয়েটি আস্তে আস্তে কাছে এগিয়ে এসে বলল, “আমি... এই বাড়ির মেয়ে। তুমি আমায় দেখতে চেয়েছ, তাই এখন থেকে আমার সাথেই থাকবে।” মেয়েটি এক মুহূর্তে অর্ঘ্যের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল, আর তার স্পর্শের সঙ্গে সঙ্গেই অর্ঘ্য অজ্ঞান হয়ে গেল। পরদিন সকালে গ্রামের লোকজন তাকে বাড়ির সামনে অচেতন অবস্থায় খুঁজে পেল। কিন্তু সেই বাড়ির দিকে তাকানোর সাহস কেউ আর করল না। অর্ঘ্য যখন জ্ঞান ফিরল, সে শুধু বলল, “সেই চোখ... সেই হাসি... আমি আর কখনো কিছু লিখতে পারব না!”
Next Post Previous Post