পুরনো বাড়ির জানালা

গভীর রাতে, হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে গেল। বৃষ্টি হচ্ছে টুপটাপ। এমন রাতেই আরিফ প্রথমবার দাদুর পুরনো বাড়িতে এল। গ্রামের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা সেই দোতলা বাড়িটা বহু বছর ধরে বন্ধ ছিল।

আরিফ শহর থেকে ছুটি নিয়ে গ্রামে এসেছে, অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল পুরনো বাড়িটা একবার ঘুরে দেখার। রাতটা কাটাবে বলেই এসেছে, কিন্তু এখন এই অন্ধকার, বৃষ্টির শব্দ, আর দূর থেকে কুকুরের ঘেউ ঘেউ — সব মিলে তার বুক ধুকপুক করতে লাগল।

হঠাৎ করে উপরের ঘরের জানালা আপনাতেই খচ খচ করে খুলে গেল। বাতাস নেই, তবুও পর্দা যেন কারও স্পর্শে নড়ছে।

আরিফ সাহস করে উপরে উঠল। হাতের টর্চটা বার করে ধীরে ধীরে জানালার দিকে এগোল। জানালার পাশে একটা আয়না ছিল — বহু পুরনো, ধুলোয় ভর্তি। হঠাৎ সে দেখল আয়নায় তার পেছনে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে!



চমকে ঘুরে তাকাল, কিন্তু পেছনে কেউ নেই।

আবার আয়নার দিকে তাকাতেই মেয়েটা মৃদু হাসছে। মুখে সাদা শাড়ি, মাথায় ভেজা চুল, আর চোখ দুটো লালচে — ঠিক যেন রক্তে ভেজা।

আরিফ দৌড়ে নিচে নামতে গেল, কিন্তু দরজা বন্ধ। তখনই কানে এলো ফিসফিস আওয়াজ —
“এই বাড়ি ছাড়ো… এখানে কারও শান্তি নেই…”

আতঙ্কে অজ্ঞান হয়ে পড়ল আরিফ।
পরদিন সকালে গ্রামের লোকেরা তাকে বাড়ির সামনে অজ্ঞান অবস্থায় পেল।

আরিফ এখনো বেঁচে আছে, কিন্তু কোনোদিন আর সেই বাড়ির কথা বলেনা। শুধু মাঝে মাঝে ঘুমের ঘোরে চিৎকার করে ওঠে —
জানালাটা বন্ধ করো… ও এসে যাবে…”

Next Post Previous Post