অন্ধকারের ছায়া
গ্রামের নাম দত্তপাড়া। গ্রামের এক কোণে পুরনো এক ভাঙা জমিদারবাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। লোকমুখে শোনা যায়, সেখানে রাতে অদ্ভুত আওয়াজ শোনা যায়—চিৎকার, কান্না আর পায়ের শব্দ।
রাত দশটার পর কেউ সাহস করে ওই পথ দিয়ে যায় না।
একদিন শহর থেকে তপন নামের এক যুবক আসে। গ্রামের গল্প শুনে সে হেসে বলে—
“ভূত-টুত বলে কিছু নেই। আমি আজ রাতেই ওই বাড়িতে থাকব।”
গ্রামের সবাই ভয় পেয়ে তাকে বারবার নিষেধ করল, কিন্তু তপন হেসেই চলে গেল ভাঙা জমিদারবাড়ির ভেতরে।
মধ্যরাতে আচমকা দরজা ধপ করে বন্ধ হয়ে গেল। চারপাশে কেবল কালো অন্ধকার। হঠাৎ দূরে এক মহিলার কান্নার শব্দ ভেসে এল। তপন টর্চ জ্বালাল, কিন্তু আলো ঠিক মতো জ্বলল না।
ছাদের কোণ থেকে কার যেন ফিসফিসানি ভেসে এল—
“কেন এলে…? কেন আমাদের শান্তি ভাঙালে…?”
তপনের শরীর ঠান্ডা হয়ে গেল। সে দৌড়াতে চাইল, কিন্তু দেখল দরজা আর নেই! সামনে দাঁড়িয়ে আছে সাদা শাড়ি পরা এক লম্বা মহিলা, চোখ দুটো লাল হয়ে জ্বলছে।
পরদিন সকালে গ্রামের লোকজন জমিদারবাড়িতে গিয়ে শুধু তপনের টর্চটাই পেল, তার আর কোনো খোঁজ মিলল না।
আজও রাতে কেউ ওই বাড়ির পাশ দিয়ে গেলে হঠাৎ টর্চের ক্ষীণ আলো আর তপনের চিৎকার শোনা যায়…
