"রক্তাক্ত প্রাসাদ"

রক্তাক্ত প্রাসাদশহর থেকে অনেক দূরে, এক পরিত্যক্ত প্রাসাদ দাঁড়িয়ে আছে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে। লোককথা বলে, সেই প্রাসাদে এক ভয়ঙ্কর অভিশাপ লেগে আছে। সেখানে যে গেছে, সে আর কখনো ফিরে আসেনি।


বি একজন লেখক, যে ভূত-প্রেতের কাহিনি লিখতে ভালোবাসে। পুরনো অভিশপ্ত স্থানগুলোর ইতিহাস খোঁজাই তার নেশা। সে শুনল, এই প্রাসাদের রহস্য এখনো কেউ উদঘাটন করতে পারেনি। সেই কৌতূহলে, এক অন্ধকার রাতে সে একাই সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।


 


প্রাসাদের মূল দরজা
য় পৌঁছাতেই এক অদ্ভুত অনুভূতি তার শরীরে স্রোতের মতো ছড়িয়ে পড়ল। বাতাসে যেন কারও ফিসফিসানি ভেসে আসছিল। রবি ভিতরে ঢুকতেই চারদিকে ধুলোর আস্তরণ আর দেওয়ালের গা বেয়ে গাঢ় লাল দাগ দেখা গেল, যা শুকিয়ে গেলেও তার রক্তের গন্ধ অদৃশ্য হয়নি।


একটু এগিয়ে যেতেই সে অনুভব করল
, কেউ তার পেছনে হাঁটছে। কিন্তু ফিরে তাকালে কেউ নেই। হঠাৎ একটা দরজা বিকট শব্দে বন্ধ হয়ে গেল। বাতাস ভারী হয়ে উঠল, যেন শত শত শ্বাসের শব্দ একসঙ্গে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।


আচমকা তার সামনে এক সাদা ছায়া উদিত হলো—এক নারীর অবয়ব, যার চোখ দুটো কালো গহ্বরের মতো, আর তার ঠোঁট থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে। সে করুণ স্বরে বলল, "আমাকে মুক্ত করো… অথবা তুমি চিরকাল এখানে বন্দি থাকবে!"


রবি দৌড়াতে চাইল, কিন্তু তার শরীর নড়ছিল না। চারপাশের দেয়াল থেকে হাত বেরিয়ে আসতে লাগল, তাকে ধরে রাখার জন্য। প্রচণ্ড আতঙ্কে সে চিৎকার করল, কিন্তু তার গলা দিয়ে কোনো শব্দ বেরোল না…
সকালের প্রথম আলোয় গ্রামের লোকেরা প্রাসাদের সামনে একটি বই পড়ে থাকতে দেখল, যার শেষ পৃষ্ঠায় লেখা ছিল—"আমি ফিরে যাব না, কখনোই…"

Next Post Previous Post