শাপিত কালো ছায়া
গ্রামের শেষ প্রান্তে ছিল এক পুরনো, ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দির। দিনের আলোয় তা ছিল নিস্তব্ধ, কিন্তু রাত হলেই সেখানে অশরীরীদের আনাগোনা শুরু হতো—এমনটাই বিশ্বাস করত গ্রামবাসীরা।
শুভম ছিল একজন নির্ভীক তরুণ, যা সে নিজে ভূত-প্রেতে বিশ্বাস করত না। সে গ্রামের কুসংস্কার ভাঙতে এক অমাবস্যার রাতে একা মন্দিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। হাতে একটি লণ্ঠন নিয়ে, নির্ভয়ে সে প্রবেশ করল ধ্বংসস্তূপের মাঝে।
প্রথমে কিছুই অস্বাভাবিক লাগেনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর, তার চারপাশে ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করল। হঠাৎ করেই মন্দিরের ভেতর থেকে ভেসে এলো করুণ এক দীর্ঘশ্বাস। শুভম লণ্ঠন উঁচু করতেই দেখতে পেল—একটি কালো ছায়ামূর্তি কোণের দিকে সরে যাচ্ছে।
সে সাহস করে সামনে এগোলো। ছায়ামূর্তিটি ধীরে ধীরে তার দিকে ফিরে তাকাল—তাতে কোনো মুখ ছিল না, ছিল শুধুই দুটি গভীর, ফাঁকা চোখ, যা অন্ধকারের চেয়েও কালো। ছায়াটি ফিসফিস করে বলল, "তুমি চলে যাও... নাহলে আমিও তোমাকে আমার মতো করে দেব।"
শুভমের শরীর যেন বরফ হয়ে গেল। সে ছুটতে চাইল, কিন্তু পায়ের নিচের মাটি যেন তাকে আটকে রেখেছে। আচমকা, ছায়াটি তার দিকে ধেয়ে এলো, আর এক মুহূর্তেই চারপাশের বাতাস ভয়ঙ্কর আর্তনাদে ভরে গেল।
পরদিন সকালে গ্রামবাসীরা মন্দিরের সামনে শুভমকে পড়ে থাকতে দেখল—তার চোখদুটি ফাঁকা, দৃষ্টিশূন্য। আর তার ঠোঁটে তখনও সেই শেষ ফিসফিস আওয়াজ বাজছিল—"তুমি চলে যাও... নাহলে আমিও তোমাকে আমার মতো করে দেব।"
