চণ্ডীমণ্ডপের ছায়া
নন্দীগ্রামের পাশের ছোট্ট একটা গ্রাম—মালিপাড়া। এই গ্রামে একটা পুরোনো চণ্ডীমণ্ডপ আছে, যেটা এখন প্রায় ধ্বংসস্তূপ হয়ে গেছে। দিনের বেলা কেউ না কেউ সেখান দিয়ে হেঁটে যায়, কিন্তু সন্ধে নামার পর ওদিকটা পুরো ফাঁকা হয়ে যায়। গ্রামের লোকেরা বলে, "ওখানে রাতে কেউ গেলে আর ফিরে আসে না!"
কিন্তু এসব গল্পে বিশ্বাস করে না রাজু, গ্রামের স্কুলের সদ্য পাশ করা ছেলে। শহরে পড়তে যাবার আগে ঠিক করল, একবার ওই চণ্ডীমণ্ডপে রাত কাটাবে—সব ভুতুড়ে গল্পের গুজব দূর করতে হবে।
রাত ১১টা
রাজু একটা টর্চ আর মশার কয়েল নিয়ে বসে আছে চণ্ডীমণ্ডপে। চারদিকে গা ছমছমে নীরবতা। হঠাৎ করেই হাওয়া উঠল। টর্চটা নিভে গেল এক ঝটকায়।
অন্ধকার।
একটা ছায়া... ধীরে ধীরে রাজুর দিকে এগোচ্ছে।
ছায়াটার কোন মুখ নেই, হাত নেই—কেবল একটা অবয়ব! কিন্তু সেই অবয়ব থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এল,
"তুই কেন এলি এখানে...? আমার ঘুম ভাঙালি কেন?"
রাজু পেছনে তাকাতে চাইল, কিন্তু দেহ যেন জমে গেছে। শরীর নড়ে না, গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোয় না।
ছায়াটা কাছে আসছে... একদম কাছে...
হঠাৎ সেই ছায়ার চোখে এক জ্বলন্ত আগুনের ঝলক!
রাজু আর কিছু মনে করতে পারে না...
পরদিন ভোরে, গ্রামবাসীরা চণ্ডীমণ্ডপে এসে দেখে—রাজু পড়ে আছে মাটিতে, জ্ঞান নেই। তার চোখ দুটো হাঁ করে খোলা, মুখে এক অদ্ভুত ভয়ের ছাপ।
তিন দিন পর জ্ঞান ফিরলেও, রাজু আর কোনদিন কথা বলেনি। শুধু মাঝে মাঝে ফিসফিস করে বলে,
"ও ঘুমোচ্ছিল... আমি ডেকে ফেলেছি..."
