শেষ বাসটার যাত্রী

গ্রামটার নাম ছিল শিমুলতলা। দিনের বেলা একদম নরমাল—গরু, খেত, পুকুর, আজান আর সন্ধ্যার শাঁখ। কিন্তু রাত হলেই রাস্তার চেহারা বদলে যেত। বিশেষ করে রাত ১১টার পরের শেষ বাসটা… ওটা নিয়ে গ্রামের লোকজন একটু বেশি চুপচাপ থাকত।
রাশেদ নতুন চাকরিতে ঢুকেছে, তাই প্রায়ই দেরি হয়। সেদিনও রাত সাড়ে ১১টা। স্টপেজে দাঁড়িয়ে আছে—চারপাশে নিস্তব্ধতা, শুধু ঝিঁঝিঁ পোকার কনসার্ট।
হঠাৎ বাসটা এলো। পুরোনো, লাইট ঝাপসা, আর ড্রাইভারের মুখটা অদ্ভুতভাবে ফ্যাকাশে।
বাসে উঠে দেখে—যাত্রী মাত্র তিনজন। সবাই চুপ। কারও মুখ দেখা যায় না ঠিকমতো।
বাস চলতে শুরু করল।



কিছু দূর যেতেই রাশেদের গায়ে কেমন একটা ঠান্ডা বাতাস লাগল। জানালা বন্ধ, তবুও ঠান্ডা!
হঠাৎ পাশের সিটের লোকটা ধীরে ধীরে ঘুরে তাকাল।

রাশেদের বুক ধক করে উঠল।

লোকটার কোনো চোখ নেই।
শুধু ফাঁকা গর্ত… আর সেখান থেকে গড়িয়ে পড়ছে কালচে পানি।

লোকটা ফিসফিস করে বলল,
“তুই নামবি না?”

রাশেদ ভয়ে কথা হারিয়ে ফেলেছে। ঠিক তখনই বাস থামল। জায়গাটা কবরস্থানের পাশের মোড়।
ড্রাইভার পেছনে তাকিয়ে বলল,
“নামতে হলে নামেন… আর কেউ থাকলে দায় আমার না।”

রাশেদ লাফ দিয়ে নেমে দৌড়!
পেছনে তাকিয়ে দেখে—বাসটা নেই। রাস্তা ফাঁকা। শুধু কবরস্থানের বাতাসে একটা শব্দ ভেসে আসছে—

“শেষ বাস… কেউ ফিরতে পারে না…”

সেদিনের পর রাশেদ আর কোনোদিন রাত ১১টার বাসে ওঠেনি।
আর শিমুলতলার লোকজন বলে—
যে ভুল করে ওঠে, সে আর আগের মতো মানুষ থাকে না… 👻

Next Post Previous Post