শ্মশানের ছায়া

একটি প্রত্যন্ত গ্রামে, যেখানে সূর্যাস্তের পর মানুষ ঘর থেকে বের হয় না, সেই গ্রামে ছিল একটি পুরোনো শ্মশান। শোনা যেত, রাতের বেলায় সেখানে অদ্ভুত আওয়াজ শোনা যায়—কখনও হাসির, কখনও কান্নার। গ্রামের বয়স্করা বলত, শ্মশানে একটি অভিশপ্ত আত্মা ঘুরে বেড়ায়, যে জীবিত মানুষদের সাথে খেলা করে। একদিন শহর থেকে আসা চার বন্ধু রাহুল, মিঠুন, জিয়া এবং সায়নী ঠিক করল, 

এই শ্মশানের গুজবের সত্যতা যাচাই করতে হবে। তারা রাতে শ্মশানে গিয়ে ক্যাম্পিং করার পরিকল্পনা করল। টর্চ, ক্যামেরা, এবং স্লিপিং ব্যাগ নিয়ে তারা শ্মশানে পৌঁছাল। রাত তখন ১২টা। চাঁদের আলোয় শ্মশানের প্রতিটি কোণা ভয়াবহ মনে হচ্ছিল। প্রথম কিছুক্ষণ সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলো। হঠাৎ, শোনা গেল দূর থেকে কারো ফিসফিসানি। রাহুল ভেবেছিল হয়তো বাতাসের খেলা, কিন্তু আওয়াজগুলো ক্রমশ তাদের কাছাকাছি আসতে থাকল। মিঠুন টর্চের আলো দিয়ে চারপাশ খুঁজতে গিয়ে দেখতে পেল, দূরে একটি ধোঁয়াটে ছায়া নড়াচড়া করছে। সাহস করে তারা ছায়ার দিকে এগোল, কিন্তু যতই এগোল, ছায়া ততই দূরে সরে যাচ্ছিল।

হঠাৎ করে জিয়া তীব্র চিৎকার করে উঠল। সবাই ছুটে এসে দেখল, জিয়া মাটিতে পড়ে কাঁপছে, তার চোখ স্থির এবং মুখে আতঙ্কের ছাপ। সে ফিসফিস করে বলতে লাগল, "ওরা আসছে... ওরা আমাদের ছাড়বে না..." এর পরপরই শোনা গেল, চারপাশ থেকে অদ্ভুত হাসির আওয়াজ, যা ধীরে ধীরে চিৎকারে রূপান্তরিত হলো। তারা দ্রুত শ্মশান থেকে পালানোর চেষ্টা করল, কিন্তু শ্মশানের গেট যেন অদৃশ্য শক্তি দিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। ছায়াগুলো ক্রমশ তাদের চারপাশে ঘিরে ধরল। একসময় সেই ছায়াগুলো মানুষের রূপ নিল—

বিকৃত মুখ, ফাঁকা চোখ, আর তাদের হাতগুলো রক্তমাখা। রাহুল এবং মিঠুন শেষ চেষ্টা করল গেট ভাঙার, কিন্তু তাদের শরীর হঠাৎ করে শক্ত হয়ে গেল, আর তারা মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। পরদিন সকালে, গ্রামবাসীরা শ্মশানের কাছে গিয়ে যা দেখল, তা তাদের আতঙ্কিত করে তুলল। শ্মশানের মাটিতে চারটি পাথরের মূর্তি দাঁড়িয়ে ছিল, এবং সেগুলোর মুখ অবিকল রাহুল, মিঠুন, জিয়া, আর সায়নীর মতো। যখন রাত নামে, গ্রামের মানুষ বলে, শ্মশানের সেই মূর্তিগুলো আস্তে আস্তে নড়াচড়া করে, আর যারা সাহস করে শ্মশানে যায়, তারা কখনও আর ফিরে আসে না....

Next Post Previous Post