বনমালী লজের অভিশাপ

ঢাকার উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি পরিত্যক্ত জমিদারবাড়ি, বনমালী লজ, যা এলাকাবাসীর কাছে এক ভীতিকর রহস্য হিসেবে পরিচিত। বলা হয়, এই বাড়ির আয়নাঘর ভয়ংকর অভিশাপে আক্রান্ত। যারা এই ঘরে প্রবেশ করেছে, তাদের অনেকেই আর ফিরে আসেনি, আর যারা ফিরেছে, তারা অদ্ভুতভাবে পরিবর্তিত হয়ে গেছে।

 এক রাতে, সাহসী কলেজছাত্র রুদ্র তার বন্ধু আদিত্য এবং নিহারিকাকে নিয়ে ঠিক করল, এই গুজবের সত্যতা যাচাই করতে হবে। তারা নিজেদের সাথে টর্চ, ক্যামেরা এবং কিছু প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে বনমালী লজে প্রবেশ করল।

 বাড়ির প্রবেশদ্বারটি অদ্ভুতভাবে সহজেই খুলে গেল, যেন কেউ বা কিছু তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। ভেতরে ঢোকার সাথে সাথে তারা টের পেল, বাতাস ভারী আর শীতল, যেন কোনো অদৃশ্য শক্তি তাদের নজর রাখছে। ঘরের প্রতিটি কোণে ধুলো জমে থাকলেও, একমাত্র আয়নাঘরটি ছিল পরিষ্কার এবং ঝকঝক করছিল।

রুদ্র সাহস করে আয়নার সামনে দাঁড়াল। প্রথমে কিছুই অস্বাভাবিক মনে হলো না, কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যে সে বুঝতে পারল, তার প্রতিচ্ছবি ঠিক তার মতো নয়। প্রতিচ্ছবির চোখ দুটো ছিল অস্বাভাবিক লাল, আর মুখে ছিল বিকৃত এক হাসি। হঠাৎ করেই প্রতিচ্ছবিটি আয়নার ভেতর থেকে হাত বাড়িয়ে রুদ্রকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করল। আদিত্য ও নিহারিকা রুদ্রকে বাঁচানোর চেষ্টা করল, কিন্তু আয়নার গ্লাস ভেঙে ছায়া বেরিয়ে এলো এবং তাদের ঘিরে ধরল। ঘরের তাপমাত্রা হঠাৎ করে অনেক নেমে গেল, আর চারপাশে কুয়াশা জমতে শুরু করল। 

সেই ছায়া তাদের একে একে গ্রাস করল, আর তাদের আতঙ্কিত চিৎকার বাড়ির ভেতরে প্রতিধ্বনিত হতে থাকল। পরদিন সকালে স্থানীয়রা কৌতূহলবশত বাড়ির সামনে এলো। তারা দেখল, বনমালী লজের দরজা অদ্ভুতভাবে খোলা। আয়নাঘরে ঢুকে তারা যা দেখল, তা তাদের আতঙ্কিত করে তুলল—ঘরের মেঝেতে রক্তের দাগ এবং রুদ্র, আদিত্য ও নিহারিকার জুতো আর ক্যামেরা পড়ে ছিল, কিন্তু তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় ছিল ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ। সেখানে দেখা যায়, 

রুদ্র আয়নার সামনে দাঁড়ানোর পর তার প্রতিচ্ছবি আস্তে আস্তে তার পেছনে চলে আসে, আর আসল রুদ্র ধীরে ধীরে আয়নার ভেতরে আটকে যাচ্ছে। ক্যামেরার শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, আয়নার ভেতরে তিনটি ছায়া দাঁড়িয়ে আছে, এবং তাদের মধ্যে একটির মুখ হুবহু রুদ্রের মতো। সেই দিনের পর থেকে, বনমালী লজ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়রা বলে, রাতে যদি কেউ আয়নাঘরের দিকে তাকায়, আয়নার ভেতরে এখনও সেই তিনটি ছায়া দাঁড়িয়ে থাকে, চোখে লাল আভা নিয়ে, নতুন শিকারীর অপেক্ষায়…

Next Post Previous Post