অশান্ত শ্মশান
একটি ছোট্ট গ্রামে ছিল এক প্রাচীন শ্মশানঘাট, যা কালীঘাট শ্মশান নামে পরিচিত। শোনা যেত, রাতের বেলায় শ্মশান ঘাটে অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটে। গ্রামের বয়স্করা বলত, সেখানে রক্তিম ছায়া নামে এক অভিশপ্ত আত্মা ঘুরে বেড়ায়, যে অশান্ত আত্মাদের সঙ্গে নিয়ে জীবিতদের ওপর প্রতিশোধ নেয়। একদিন শহর থেকে আসা তিন বন্ধু তন্ময়, অরিত্র এবং সঞ্চিতা ঠিক করল, এই শ্মশানের রহস্য উদঘাটন করবে।
তারা রাতে শ্মশানে গিয়ে ভিডিও ধারণের পরিকল্পনা করল। টর্চ, ক্যামেরা এবং কিছু তন্ত্রমন্ত্রের বই নিয়ে তারা শ্মশানে পৌঁছাল। রাত তখন ১টা। গঙ্গার জল শুকনো বাতাসে ভেসে আসছিল, আর শ্মশান ছিল নিস্তব্ধ, শুধু occasional শকুনের ডাকে ভয়ের সুর তৈরি হচ্ছিল। প্রথমে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলো, কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে তারা শুনতে পেল দূর থেকে ভেসে আসা ফিসফিসানি, যা গা ছমছমে ঠান্ডা করছিল। হঠাৎ, তন্ময় দেখতে পেল এক ধোঁয়াটে ছায়া শ্মশানের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। সাহস করে অরিত্র টর্চের আলো ছুঁড়ল, কিন্তু আলো যেন সেই ছায়ার মধ্যে ঢুকে হারিয়ে গেল।
সঞ্চিতা তন্ত্রমন্ত্রের বই থেকে কিছু মন্ত্র পড়তে শুরু করল, কিন্তু আচমকা বইটি তার হাত থেকে উড়ে গিয়ে আগুনে পুড়ে গেল। সেই মুহূর্তে ছায়াটি ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে এলো। তন্ময় দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করল, কিন্তু তার পা যেন মাটিতে আটকে গেল। অরিত্র ও সঞ্চিতা তন্ময়কে বাঁচানোর চেষ্টা করল, কিন্তু ছায়াটি তাদের চারপাশে ঘিরে ধরল। পরদিন সকালে গ্রামের মানুষরা শ্মশানে গিয়ে যা দেখল, তা তাদের আতঙ্কিত করে তুলল।
শ্মশানের মাটিতে তিনটি ছাইয়ের গাদা পড়ে ছিল, এবং সেখানে লেখা ছিল, "আরও আসবে, আরও হারাবে..." সেই রাতের পর থেকে, কালীঘাট শ্মশান সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কিন্তু গ্রামবাসীরা বলে, প্রতি পূর্ণিমার রাতে শোনা যায় তিনজনের আতঙ্কিত চিৎকার, আর শ্মশানের বাতাসে ভেসে আসে পোড়া মাংসের গন্ধ......
