আয়নার ভেতরে

মিতুলের ঘরে সেই প্রাচীন আয়নাটা ছিল। দাদার কাছ থেকে পাওয়া, চারপাশে অদ্ভুত নকশা আর গাঢ় কাঠের ফ্রেম। মিতুল ছোটবেলা থেকেই আয়নার সামনে সময় কাটাতে ভালোবাসত। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে আয়নার সামনে বসলে কেন যেন তার মনে হচ্ছিল, কেউ যেন তাকে পর্যবেক্ষণ করছে। 

 সেদিন রাতেও একই ঘটনা ঘটল। সময় তখন রাত ১টা। ঝড়ের বেগ বেড়েছিল, আর জানালার কাচে বৃষ্টির ফোঁটা যেন একটা অদ্ভুত ছন্দে পড়ছিল। মিতুল আয়নার দিকে তাকিয়ে ছিল, তখনই তার প্রতিচ্ছবির মধ্যে কিছু একটা অস্বাভাবিক দেখে থমকে গেল। আয়নার ভেতরের প্রতিচ্ছবি তার মতো ছিল, কিন্তু চোখের দৃষ্টি কেমন ফাঁকা আর শীতল। তার হাতও একটু একটু করে নাড়াচ্ছে, যদিও মিতুল কোনো নড়াচড়া করেনি। 

 “এটা কী করে সম্ভব?” আতঙ্কিত হয়ে ভাবল মিতুল। হঠাৎ সেই প্রতিচ্ছবি মুখ খুলল। “তুই অনেকদিন ধরে এখানে বসছিস। এখন আয়নার ভেতরে ঢোকার সময় হয়েছে।”

মিতুল ভয়ে চিৎকার করে উঠল। কিন্তু তার গলার আওয়াজ যেন ঘরের ভেতর আটকে গেল। আয়নাটা থেকে অদ্ভুত কুয়াশার মতো কিছু বেরিয়ে ঘরটা আচ্ছন্ন করল। কুয়াশার মধ্যে যেন অসংখ্য হাত তার দিকে এগিয়ে আসছিল।  

সে পালানোর জন্য দরজার দিকে দৌড় দিল, কিন্তু দরজা নিজের থেকেই বন্ধ হয়ে গেল। জানালার কাচে তার নিজের প্রতিচ্ছবির জায়গায় অন্য কেউ দাঁড়িয়ে। সেই প্রতিচ্ছবি ভয়ঙ্করভাবে হাসছিল, আর তার কালো চোখে যেন গভীর শূন্যতা। আয়নার ভেতর থেকে অদ্ভুত একটা হাত বেরিয়ে এলো, লম্বা আর সরু, মানুষের হাতের মতো কিন্তু বিকৃত। সেই হাত মিতুলের গলা চেপে ধরল।

 “তুই আয়নার সামনে অনেক দিন কাটিয়েছিস,” কণ্ঠটা বলল। “এখন এখানে চিরদিন থাকতে হবে।” মিতুল তার হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছিল, কিন্তু হাতটা তাকে ধীরে ধীরে আয়নার দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। শেষবারের মতো চিৎকার করল মিতুল। তারপর সে আয়নার ভেতরে হারিয়ে গেল। পরদিন সকালে তার ঘরে কেউ ছিল না। কিন্তু আয়নার ওপর একটা দাগ দেখা গেল। সেটার মধ্যে ছিল একটা হাতের ছাপ।

Next Post Previous Post