চিৎকারের রাতে

রাতে চন্দ্রিমা গ্রাম একদম নিস্তব্ধ। রাস্তার পাশের বটগাছগুলো যেন কালো ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে থাকে। এই গ্রামে একটা পুরনো শ্মশান আছে, যেখানে কেউ রাতের বেলা যেতে সাহস পায় না। কারণ, শোনা যায়, সেখানে মৃতদের আত্মারা ঘোরাফেরা করে। সুমন আর তার দুই বন্ধু—অভি আর রাহুল, মজা করতে গিয়ে সেই শ্মশানে যাওয়ার পরিকল্পনা করল। বন্ধুরা মশকরা করছিল, কিন্তু সুমনের মনে কোথাও একটা অজানা ভয় ছিল। রাত ১১টা। তিন বন্ধু টর্চ হাতে শ্মশানের দিকে এগোল। প্রবেশদ্বারে পৌঁছে তারা দেখতে পেল, বাতাসে শুকনো পাতা উড়ছে, আর এক অদ্ভুত গন্ধ চারপাশে ভাসছে। পেছনে তাকানোর সাহস যেন কারো নেই। হঠাৎ তারা একটা পুরনো পোড়া চিতা দেখতে পেল। চিতার উপর থেকে কালো ধোঁয়া উঠছে। কাছাকাছি যেতেই একটা মেয়ের কণ্ঠস্বর শোনা গেল, যেন কেউ ফিসফিস করে বলছে, **“তোমরা কেন এসেছ এখানে?”**
বন্ধুরা হতবাক হয়ে চারদিকে তাকাল, কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না। হঠাৎ পেছন থেকে একটা ঠান্ডা হাত সুমনের কাঁধে পড়ল। ঘুরে দাঁড়াতেই তারা দেখল, এক বৃদ্ধা, চুলগুলো সাদা, চোখের মণি নেই, আর মুখে বিকৃত হাসি। বৃদ্ধা বলল, **“তোমরা আর ফিরে যেতে পারবে না।”** তারা চিৎকার করে দৌড়াতে শুরু করল। শ্মশানের পথ যেন আরও লম্বা হয়ে যাচ্ছে। তারা যত দৌড়ায়, পথ ততই শেষ হয় না। চারদিকে অন্ধকার, বাতাসে কান্না আর চিৎকারের শব্দ। অভি আচমকা পড়ে গেল। সুমন আর রাহুল তাকে তুলতে গিয়ে দেখল, অভির শরীরটা হঠাৎ করেই জমে যাচ্ছে, তার চোখ থেকে রক্ত ঝরছে। সুমন আর রাহুল আতঙ্কে সেখান থেকে ছুটে বেরিয়ে এল। পরদিন সকালে রাহুলকে গ্রামের লোকেরা তার বাড়ির দরজার সামনে অজ্ঞান অবস্থায় পেল। কিন্তু সুমন আর অভির কোনো খোঁজ নেই। গ্রামের লোকেরা পরে শ্মশানে গিয়ে দেখে, সেখানে নতুন দুটো চিতা জ্বলছে। কেউ জানে না, কিভাবে। সেই রাত থেকে, চন্দ্রিমা গ্রামের কেউ আর সন্ধ্যার পরে বাড়ির বাইরে বের হয় না। কারণ, শোনা যায়, যারা শ্মশানে যায়, তারা আর জীবিত ফিরে আসে না।
Next Post Previous Post