**ভৌতিক রাতের গোপন কথা**
গ্রামের এক কোণে পুরনো, পরিত্যক্ত এক জমিদার বাড়ি। বাড়িটা নিয়ে কত গুজব! কেউ বলে, সেখানে রাতের বেলা আলো জ্বলে। কেউ বলে, একা গেলেই কান্নার শব্দ শোনা যায়।
রাতের এক গভীর সময়, রূপা আর তার বন্ধুরা সাহস করে সেই বাড়ির ভেতরে ঢোকার সিদ্ধান্ত নিল। বড় লোহার গেটটা জংধরা আর ভাঙা, যেন বহু বছর কেউ খুলে দেখেনি। বন্ধুরা সবাই মিলে গেট খুলে ভেতরে প্রবেশ করল। বাড়ির উঠোনে বড় বড় গাছ, সবুজ লতাপাতা সব কিছু ঢেকে রেখেছে।
একটি পুরনো পিয়ানোর সামনে দাঁড়াতেই এক অদ্ভুত ঠান্ডা হাওয়া এসে তাদের গা শিউরে দিল। আচমকা পিয়ানো থেকে একা একাই সুর বের হতে লাগল। সবাই হতবাক হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ল। সুরটা যেন কারো কান্নার মতো শোনাচ্ছিল।
রূপা সাহস করে সামনে এগিয়ে গেল। হঠাৎ জানালার পর্দা নড়ে উঠল, আর এক নারীর ছায়ামূর্তি দেখতে পেল তারা। মুখ ঢাকা, তবে তার চোখ যেন ছুরি হয়ে সবার গায়ে বিঁধছে।
বন্ধুরা চিৎকার করে ছুটতে লাগল। কিন্তু দরজা আর গেট বন্ধ হয়ে গেছে! মেয়েটি আস্তে আস্তে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। রূপা ভয়ে জ্ঞান হারাল।
পরদিন ভোরে গ্রামবাসীরা তাদের বাড়ির সামনে অচেতন অবস্থায় খুঁজে পেল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, বাড়ির গেটে তালা লাগানো ছিল, ঠিক যেমন আগে ছিল।
কেউ জানে না, সেই রাতে কী ঘটেছিল। কিন্তু এরপর থেকে কেউ আর সেই বাড়ির দিকে পা বাড়ায়নি।
