চৌধুরীবাড়ির ছায়া
গ্রামের মধ্যে চৌধুরীবাড়ি ছিল এক পরিত্যক্ত জমিদারবাড়ি। বহু বছর ধরে সেখানে কেউ থাকত না। গ্রামে শোনা যেত, বাড়িটিতে এক অভিশপ্ত আত্মার বাস। রাত হলে বাড়ি থেকে হঠাৎ হঠাৎ কান্নার আওয়াজ শোনা যেত।
একবার শহর থেকে আসা এক দল তরুণ ঐ বাড়িতে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নিল। তারা গল্প শুনে হাসল, "ভুত-প্রেত বলে কিছু নেই। আমরা দেখব, ভয় কাকে বলে!"
রাতে সবাই মশাল ও টর্চ নিয়ে চৌধুরীবাড়িতে ঢুকল। প্রথমে কিছুই ঘটল না। তারা বেশ মজা করে গল্প করতে লাগল। কিন্তু হঠাৎ ঘরের জানালাগুলো এমনভাবে নড়তে শুরু করল যেন ঝড় বইছে। বাইরে তখন একদম নিরব।
একজন জিজ্ঞেস করল, "তুমি দরজা খুলে দেখ তো বাইরে কেউ আছে কিনা।" দরজা খুলতেই দেখা গেল, বাইরে এক সাদা কাপড় পরা একজন দাঁড়িয়ে। তার চোখদুটো অস্বাভাবিক লাল, আর মুখে অদ্ভুত হাসি।
তরুণরা দৌড়ে বাড়ি থেকে বের হতে চাইল। কিন্তু বাড়ির দরজাগুলো যেন আপনা থেকেই বন্ধ হয়ে গেল। ঘরের কোণ থেকে এক নারীর গলার আওয়াজ এলো, "আমার বাড়ি থেকে কেউ বাঁচতে পারবে না।"
সেই রাতে পুরো গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকালে লোকজন চৌধুরীবাড়িতে গিয়ে দেখে, ছেলেগুলো অচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। তারা সবাই বলল, তারা আর কখনো এই বাড়ির দিকে পা দেবে না।
শেষ কথা
চৌধুরীবাড়ি সেই থেকে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠল। গ্রামের লোকেরা ভেবেছিল, এই বাড়ি চিরকাল অন্ধকারে ঢাকা পড়ে থাকবে।
গল্পের শিক্ষা: অজানাকে অবহেলা করা বিপজ্জনক হতে পারে।
