পুকুরপাড়ের প্রেত
সুনীলপুর গ্রামে এক পুরোনো পুকুর ছিল। পুকুরটিকে সবাই এড়িয়ে চলত, কারণ শোনা যেত, প্রতি পূর্ণিমার রাতে সেখানে এক প্রেত আত্মার আবির্ভাব ঘটে।
একবার গ্রামের মৃণাল নামের এক যুবক তার বন্ধুদের সঙ্গে শপথ নিল যে সে সেই পুকুরে গোসল করবে। তার বন্ধুরা তাকে নিরুৎসাহিত করল, কিন্তু মৃণাল কথা রাখার জন্য এক পূর্ণিমার রাতে সেখানে গেল।
পুকুরের জলে চাঁদের আলো পড়ে ঝিলমিল করছিল। মৃণাল জলে নামল, কিন্তু জলের গভীরতা হঠাৎ বেড়ে গেল। সে ভাবল, পা ফসকে গেছে। জলের নিচ থেকে হঠাৎ একটা ঠান্ডা হাত তার পা চেপে ধরল।
সে চিৎকার করে উঠে আসার চেষ্টা করল, কিন্তু এক অদ্ভুত হাসির আওয়াজ শুনে সে জমে গেল। পুকুরের মাঝখানে হঠাৎ এক নারীর ছায়া দেখা গেল। তার গায়ে কোনও মাংস নেই, কেবল হাড় আর খোলা চুল।
মৃণাল জোরে জোরে মন্ত্র পড়া শুরু করল, যা সে তার ঠাকুরদার কাছ থেকে শিখেছিল। নারীর ছায়াটি ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল। মৃণাল জলে ভেসে উঠল, কিন্তু তার জ্ঞান হারিয়ে গেল।
সকালে গ্রামের লোকজন তাকে পুকুরের ধারে অচেতন অবস্থায় পেল। সে পরে বলল, "এই পুকুরে কারো আত্মা আটকা পড়ে আছে। পূর্ণিমার রাতে এখানে যেও না।"
শেষ কথা
গ্রামের লোকেরা সেই থেকে পুকুরটি পূর্ণিমার রাতে এড়িয়ে চলে। পুকুরটি এক অলৌকিক রহস্য হিসেবে রয়ে গেল।
