নিশির ডাক
গ্রামের শেষপ্রান্তে পুরোনো এক বটগাছ ছিল, যেটাকে সবাই ভয় পেত। রাত হলে কেউ সেখানে যেত না। কারণ শোনা যেত, রাতে সেখানে এক নিশি আসে।
এক রাতে গ্রামের রমেশ সাহস করে বন্ধুদের সঙ্গে শপথ নিল, সে বটগাছের নিচে যাবে। সবাই তাকে নিরুৎসাহিত করল, কিন্তু রমেশ তাও গেল। হাতে লন্ঠন নিয়ে গাছের নিচে পৌঁছে সে ডাক দিল, "নিশি আছিস নাকি?"
গাছের পাতা নড়ল, হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করল। রমেশের সামনে হঠাৎ একজন সাদা শাড়ি পরা মেয়ে হাজির হলো। মেয়েটি নরম গলায় বলল, "তুমি কেন ডাকলে আমাকে?"
রমেশ ভয় পেয়ে গেল, কিন্তু সাহস করে জিজ্ঞেস করল, "তুমি কে?" মেয়েটি বলল, "আমি এই গাছের আত্মা। যারা আমাকে ডাকতে আসে, তাদের সঙ্গে আমি খেলা করি।"
রমেশ পালানোর চেষ্টা করল, কিন্তু তার পা চলছিল না। মেয়েটি তার দিকে এগিয়ে এসে বলল, "তুমি সত্যিই সাহসী। কিন্তু সাহসের দাম দিতে হয়।"
সেই রাতে রমেশ আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন সকালে গ্রামের লোকজন তাকে বটগাছের নিচে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখল। সে আর কখনো ওই গাছের কাছাকাছি যায়নি।
শেষ কথা
গ্রামের লোকেরা তখন থেকে বুঝল, সাহস দেখাতে গিয়ে অজানার মুখোমুখি হওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। বটগাছটা সেই থেকেই গ্রামবাসীদের জন্য এক অলৌকিক রহস্য হয়ে রইল।
