অভিশপ্ত বাড়ী

এক প্রত্যন্ত গ্রামে ছিল একটি পুরনো, পরিত্যক্ত বাড়ি। গ্রামবাসীরা বলত, সেখানে নাকি রাত হলেই অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটে। কেউ কেউ বলত, রাতে ওই বাড়ি থেকে নারীর কান্নার শব্দ শোনা যায়, আবার কেউ বলত সেখানে অদ্ভুত ছায়া ঘুরে বেড়ায়। একদিন গ্রামের কয়েকজন যুবক সাহস করে সেই বাড়িতে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নিল। তারা মশাল, খাবার, আর নিজেদের সাহস নিয়ে রওনা দিল। রাত গভীর হতে থাকল। চারপাশ নিস্তব্ধ। হঠাৎ, এক যুবক শুনতে পেল নারীর মৃদু কান্নার শব্দ। সবাই চমকে উঠল। তারা মশালের আলোয় চারদিক খুঁজতে শুরু করল। বাড়ির একটি পুরনো ঘরের দরজা খোলা মাত্রই তারা দেখতে পেল এক সাদা পোশাকে ঢাকা একটি মূর্তি, তার মুখে দীর্ঘ হাসি। মুহূর্তের মধ্যেই বাতাস ভারী হয়ে গেল, যেন কারও নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। মূর্তিটি ধীরে ধীরে তাদের দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। ভয় পেয়ে তারা দৌড়াতে শুরু করল। কিন্তু বাড়ি থেকে বেরোনোর দরজা যেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
ভোর হলে গ্রামবাসীরা গিয়ে দেখল, সেই যুবকরা সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে বাড়ির মেঝেতে। তাদের জিজ্ঞাসা করলে কেউ কিছু বলতে পারল না, শুধু একটি কথা বারবার বলল: "ওই বাড়ি অভিশপ্ত। আর কখনও সেখানে যেও না।" গ্রামের লোকেরা সেই দিন থেকে ওই বাড়ির আশপাশে যেতেও ভয় পেত। বাড়িটি ধীরে ধীরে আরও রহস্যময় হয়ে উঠল। শেষ নয়... তবে কেউ জানে না, ওই কান্নার পেছনের আসল গল্পটা কী। শোনা যায়, একসময় সেই বাড়িতে এক নিষ্ঠুর জমিদারের কন্যা আত্মহত্যা করেছিল। তার আত্মাই নাকি এখনও প্রতিশোধের অপেক্ষায় রয়েছে।
Next Post Previous Post