"অন্তর্ধানের অভিশাপ"

নিশিথ রাতে বৃষ্টি থেমে গিয়েছিল। গ্রামের শেষপ্রান্তে একটা পুরনো ভাঙাচোরা বাড়ি, সবাই বলে সেখানে ভুতের বাস। শীতল বাতাসে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা সে বাড়িটা দেখতে অনেকটা ভূতের সিনেমার সেটের মতো। এক রাতে, গ্রামের তিনজন কিশোর—রাহুল, অমিত, আর দেব—সাহস দেখিয়ে ঠিক করল, বাড়িটাতে যাবে। সবাই তাদের সাবধান করল, কিন্তু কৌতূহল তো সহজে থামে না। টর্চ আর একটা পুরনো লণ্ঠন নিয়ে তারা বাড়িটার দিকে এগিয়ে গেল। বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই একটা গা শিউরে ওঠা ঠাণ্ডা হাওয়া তাদের চারপাশে ঘুরতে লাগল। দেয়ালগুলোতে কালো দাগ, যেন কেউ রক্ত দিয়ে আঁকিবুকি করেছে। একটা পাথরের টেবিলে পুরনো মোমবাতি, আর তার পাশে একটা ছেঁড়া ডায়েরি। রাহুল সেটা খুলল।
ডায়েরিতে লেখা ছিল, "যারা এখানে এসেছে, তারা কখনো ফিরে যায়নি।" এই লেখা দেখেই দেবের বুক ধুকপুক করতে লাগল। হঠাৎ, পিছনের দরজা বন্ধ হয়ে গেল জোরে। ভয়ে তারা চিৎকার করলেও কারও আওয়াজ বাইরে গেল না। এমন সময় দেয়ালের এক কোণ থেকে একটা ছায়া বেরিয়ে এল। প্রথমে সেটা ধোঁয়ার মতো ছিল, কিন্তু আস্তে আস্তে আকার পেল। এক লম্বা, পচা পোশাক পরা ভৌতিক মুখ। চোখদুটো গর্তের মতো কালো, আর মুখে বিকট হাসি। ভয়ানক সেই ছায়ামূর্তি ফিসফিস করে বলল, "তোমরা এখানে আসার সাহস করলে কেন? আমার অভিশাপ তোমাদের ছেড়ে যাবে না।" রাহুল আতঙ্কে পেছনে তাকাল, কিন্তু পা নড়াতে পারল না। অমিত আর দেবও জমে গিয়েছিল। ছায়াটি তাদের চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে একটা ভয়ানক আওয়াজে হেসে উঠল। তারপর হঠাৎ সব কিছু অন্ধকার। পরের দিন সকালে গ্রামের লোকেরা বাড়িটাতে খুঁজতে গিয়ে শুধু তিনটে জুতোর জোড়া পেল। কিশোর তিনজনের আর কোনো খোঁজ মেলেনি। সেই দিন থেকে সেই বাড়ির নাম হয়ে গেল "অন্তর্ধানের বাড়ি," আর কেউ সাহস করে সেখানে যায়নি। সেই রাতে কী ঘটেছিল, তা আজও রহস্য। কিন্তু বাড়ির সামনে দাঁড়ালেই আজও শোনা যায় ভৌতিক ফিসফিসানি আর হাসির আওয়াজ।
Next Post Previous Post