জঙ্গল রহস্য
গ্রামের পাশে এক গভীর জঙ্গল ছিল। লোকমুখে প্রচলিত ছিল, জঙ্গলে এক রহস্যময় আত্মার বাস, যে পথ হারানো মানুষদের বিভ্রান্ত করে।
একদিন গ্রামের রাহুল নামের এক যুবক তার বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে সন্ধ্যায় জঙ্গলে ঢুকে পড়ল। তারা শুনেছিল, জঙ্গলের গভীরে একটি পুরোনো মন্দির আছে, যেখানে একটি গুপ্তধন লুকানো। সন্ধ্যার আলো ক্রমশ কমছিল, আর পাখির ডাক থেমে গিয়ে গাছের ফাঁক থেকে শীতল হাওয়া আসছিল।
হঠাৎ তারা দেখল, দূরে লাল আলো জ্বলছে। ভাবল, হয়তো মন্দিরের আলোক। তারা আলো অনুসরণ করতে করতে আরও গভীরে ঢুকে গেল। কিন্তু জঙ্গলের পথ যেন একঘেয়ে হয়ে উঠল—যেখানেই যায়, বারবার একই জায়গায় ফিরে আসে।
একসময় তারা এক অদ্ভুত আওয়াজ শুনল, যেন কেউ তাদের নাম ধরে ডাকছে। রাহুল ভয় পেয়ে বন্ধুকে বলল, "চল ফিরে যাই।" কিন্তু তার বন্ধু বলল, "আমরা এতদূর এসেছি। এবার পিছু হটব না।"
তারা আরও কিছুদূর এগোতেই তাদের সামনে এক সাদা পোশাক পরা ছায়া দাঁড়িয়ে পড়ল। ছায়াটি ধীরে ধীরে বলল, "তোমরা কেন এখানে এসেছ?"
রাহুল কাঁপতে কাঁপতে বলল, "আমরা কিছু ভুল করিনি। আমাদের যেতে দিন।"
ছায়াটি বলল, "এই জঙ্গল কারো দয়ার জায়গা নয়। এখানে ঢুকে কেউ বাঁচতে পারে না।"
এত বলেই ছায়াটি হাওয়ায় মিলিয়ে গেল। তারা দৌড়াতে শুরু করল, আর হঠাৎই এক খোলা পথে পৌঁছে গেল। গ্রামের লোকেরা পরে বলল, "তোমরা ভাগ্যবান। অনেকেই ঢুকে আর ফিরে আসেনি।"
শেষ কথা
জঙ্গলের রহস্য অমীমাংসিতই রয়ে গেল। কেউ আর সাহস করে সেখানে পা রাখল না।
আপনার এটি ডাউনলোডের প্রয়োজন হলে জানাবেন!
