চকোরী নদীর জোছনা
এক সময় ছোট্ট একটা গ্রাম ছিল, যেখানে একটি পুরনো নদী ছিল, নাম ছিল চকোরী নদী। শোনা যেত, এই নদীর জলে এক প্রেত আত্মার বাস। প্রতি বছর পূর্ণিমার রাতে, নদীর পাড়ে এক রহস্যময় আলো দেখা যেত। গ্রামের মানুষ বলতেন, এটি ছিল এক নারীর আত্মা, যিনি নদীতে ডুবে মারা গিয়েছিলেন।
একদিন গ্রামে এক সাহসী যুবক, শুভ, সিদ্ধান্ত নিল যে সে রাতের আঁধারে নদীর পাড়ে যাবে। তার বন্ধুরা তাকে ভয় দেখিয়ে বলল, "এখনো পর্যন্ত কেউ ফিরতে পারেনি, তুমি কেন যাও?" কিন্তু শুভ কোনো ভয়ই পেল না, সে সিদ্ধান্ত নিল যে সে জানবে সত্যিটা।
রাত বেলা, পূর্ণিমার রাতে, শুভ নদীর পাড়ে পৌঁছাল। হঠাৎ তার চোখে পড়ল এক উজ্জ্বল জোছনা, যা নদীর উপর এক রহস্যময় আলোর মতো ছড়িয়ে পড়ছিল। কিছুক্ষণ পর, সে দেখতে পেল, নদীর গভীর থেকে এক নারীর সাদা কাপড়ে আবৃত ছায়া উঠে আসছে।
শুভ ভয় না পেয়ে বলল, "তুমি কে?" নারীর ছায়াটি ধীরে ধীরে উত্তর দিল, "আমি চকোরী নদীর প্রেত। প্রতি পূর্ণিমায় আমি এই নদী থেকে উঠে আসি।"
শুভ আরো কিছু জানতে চাইল, "তুমি কেন এখানে আছো?"
প্রেতটি উত্তর দিল, "আমি অন্যায়ভাবে নদীতে ডুবে মারা গিয়েছিলাম। এখন আমার আত্মা এখানেই আটকে আছে, মুক্তি পেতে চাই।"
এই কথা শুনে শুভ ভেবেছিল, সে যদি প্রেতটির আত্মাকে শান্ত করতে পারে, তবে তাকে মুক্তি দিতে পারবে। সে নদীর পাড়ে বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে মন্ত্রপাঠ শুরু করল। কিছু সময় পরে, নারীর ছায়াটি ধীরে ধীরে মিলিয়ে গেল এবং নদীর জল আবার শান্ত হয়ে উঠল।
পরের দিন সকালে, গ্রামবাসীরা দেখল, নদীর পাড়ে কোনো অদ্ভুত কিছু ঘটেনি। শুভ বাড়ি ফিরে এসে বলল, "এখন আর নদীতে কোনো প্রেত নেই।"
শেষ কথা
চকোরী নদী আবার শান্ত হয়ে গেল, এবং কোনো অদ্ভুত ঘটনা আর ঘটেনি। তবে গ্রামবাসীরা জানত, পূর্ণিমার রাতে কিছু অলৌকিক শক্তি ছিল, যা শুধুমাত্র সাহসী হৃদয়ই মোকাবিলা করতে পারে।
