আধারের ছায়া
রাতের বেলা গ্রামের মেঠো পথ ধরে ফিরছিল অর্ণব। পূর্ণিমার আলোতে চারপাশ যেন স্বপ্নের মতো দেখাচ্ছিল। কিন্তু এক অজানা অস্বস্তি তাকে গ্রাস করছিল। বাতাসে একটা অদ্ভুত গন্ধ, যেন পচা মাটির মতো। হঠাৎ, দূর থেকে কুকুরের ডাকে চমকে উঠল অর্ণব। চারপাশে তাকিয়ে কিছু দেখল না। কিন্তু পায়ের নীচে শোঁ-শোঁ শব্দ শুনে থমকে দাঁড়াল।
মাটি যেন কাঁপছে। অর্ণব একটু ভয়ে, একটু কৌতূহলে নিচে তাকিয়ে দেখল—তার ছায়াটা নেই! ভয়ে পা জমে গেল। কীভাবে সম্ভব? পূর্ণিমার আলোতে ছায়া তো থাকার কথা! মাথার মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরতে লাগল। হঠাৎ দূর থেকে একটা ফিসফিসানি কানে এলো।
“তুই এতো রাতে এখানে কেন?”
অর্ণব চমকে চারপাশে তাকাল। কিন্তু কাউকে দেখল না। আবার সেই কণ্ঠস্বর। এবার মনে হলো, কণ্ঠটা তার পেছন থেকে আসছে। অর্ণব ঘুরতেই দেখল এক ছায়া। কিন্তু সেটা তার নিজের ছায়া নয়। সেই ছায়াটা ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসছিল। “আমার ছায়াটা চুরি হয়ে গেছে,”
ফিসফিস করে বলল অর্ণব। ছায়াটা হাসল। “তোর ছায়া আমারই প্রয়োজন। এবার তুই চল আমার সঙ্গে।”
এরপর... অর্ণবের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
