আয়নার ওপারের মেয়ে
নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে ঢাকা রাত। গ্রামের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা পুরনো বাড়িটা নিয়ে বহুদিন ধরেই নানা গল্প শোনা যায়। বাড়িটা নাকি অভিশপ্ত। ভেতরে গেলে কেউ আর ফিরে আসে না, এমনটাই বলে গ্রামবাসীরা।
রাতের বেলা বাড়িটার পাশে কেউ ভুলেও যায় না। কিন্তু অরুণের এসব ভূতের গল্পে কোনো বিশ্বাস নেই। সে শহর থেকে পড়াশোনা করতে এসে গ্রামের এই বাড়িটা দেখতে চায়। বন্ধুদের নিষেধ অমান্য করে সে এক রাতে টর্চ লাইট হাতে একাই বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করল।
পুরো বাড়িটার ভেতরে একটা ভাঙা চেয়ার, ধুলো জমে থাকা মেঝে, আর ঝুলে পড়া মাকড়সার জাল। হঠাৎ একটা অদ্ভুত গন্ধ তার নাকে এল। সে দেখতে পেল বাড়ির এক কোনায় একটা পুরনো আয়না। আয়নায় নিজের প্রতিফলন দেখে একটু ঘাবড়ে গেল, কারণ তার ছায়া ঠিক যেন তাকে অনুসরণ করছে না।
আয়নার সামনে দাঁড়াতেই হালকা একটা ফিসফিসানি কানে এল, “তুমি ফিরে যেতে পারবে না…”। অরুণ চমকে উঠল। সে চারপাশে তাকিয়ে দেখল, কিন্তু কেউ নেই। হঠাৎ মেঝে কেঁপে উঠল। টর্চ লাইটটা এক মুহূর্তের জন্য নিভে গেল। যখন আবার আলো জ্বালাল, তখন দেখল আয়নার মধ্যে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে—ফ্যাকাশে মুখ, লম্বা কালো চুল, আর গভীর চোখে ভয়ানক এক দৃষ্টি। মেয়েটি আস্তে আস্তে আয়নার ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো। অরুণ পেছনে সরে গেল। মেয়েটি ঠোঁট না নড়িয়েই বলল, “আমাকে এখান থেকে মুক্তি দাও…”।
তার কণ্ঠ যেন শত মানুষের কষ্টে ভরা।
এরপর কী হলো, অরুণ আর জানে না। কারণ সকালে বাড়ির দরজার সামনে গ্রামবাসীরা তার টর্চ লাইটটা পড়ে থাকতে দেখল। কিন্তু অরুণের আর কোনো খোঁজ পাওয়া গেল না। লোকেরা বলে, যেই রাতেই কেউ ওই বাড়িতে ঢোকে, সেই রাতেই বাড়ি আরও একটি নতুন গল্পের সাক্ষী হয়। আর প্রতিবার, আয়নার সেই মেয়েটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
