অন্ধকারের ছায়া

গ্রামের নাম ছিল হিজলতলা। চারপাশে বিশাল ঝোপঝাড় আর পুরনো বটগাছ। গ্রামের লোকজন সন্ধ্যা নামার আগেই ঘরে ফিরে আসত। কারণ গ্রামের মাঝখানে ছিল এক পুরনো, পরিত্যক্ত জমিদারবাড়ি। বাড়িটাকে সবাই "ভূতের বাড়ি" বলে ডাকত।  

কেউ ঠিক জানত না, সেই বাড়িতে কী হয়েছিল। কেউ বলত জমিদারের পুরো পরিবারকে এক রাতের মধ্যে হত্যা করা হয়েছিল। কেউ বলত, সেখানে এক আত্মা বন্দি, প্রতিশোধের অপেক্ষায়। একদিন শহর থেকে গবেষক রাহুল গ্রামের সেই ভূতের গল্প শুনে আগ্রহী হল। সে স্থির করল, ভূতের বাড়িতে এক রাত কাটিয়ে সত্যিটা খুঁজে বের করবে। গ্রামের লোকজন তাকে অনেক বোঝাল, কিন্তু সে শুনল না।  

রাতে একটা লণ্ঠন আর ক্যামেরা নিয়ে রাহুল জমিদারবাড়িতে ঢুকল। বাড়ির ভাঙা দরজা কচমচ শব্দ করে খুলল। ভেতরে ঢুকতেই ঠান্ডা বাতাস তার গা শিরশির করে দিল। পুরনো কাঠের মেঝে আর দেয়ালে ঝুলে থাকা জাল তাকে আরও ভয় ধরাল। একটা ঘরে ঢুকে রাহুল লণ্ঠনের আলোতে দেখল, দেয়ালে পুরনো ছবিগুলো অদ্ভুত চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে। হঠাৎ সে শুনল একটা গম্ভীর গলা,"তুমি কেন এখানে?"

 রাহুল চমকে উঠে পিছন ফিরে তাকাল। কিন্তু কাউকে দেখতে পেল না। তার শ্বাস ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠল। সে অনুভব করল, কেউ যেন তার গায়ের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু লণ্ঠনের আলোয় কিছুই দেখা গেল না। তখন হঠাৎ করেই জানালার বাইরে বটগাছের ডালগুলো অস্বাভাবিকভাবে নড়তে শুরু করল। রাহুল ভয় কাটিয়ে ক্যামেরা বের করে ছবি তুলতে গেল। ঠিক তখনই একটা কালো ছায়া দেয়ালের ওপারে সরে গেল।

রাহুল ছায়ার পেছনে দৌড়াতে শুরু করল। ছায়াটা তাকে টেনে নিয়ে গেল বাড়ির সবচেয়ে অন্ধকার ঘরে। ঘরটায় ঢুকতেই দরজাটা প্রচণ্ড শব্দ করে বন্ধ হয়ে গেল। লণ্ঠনের আলো টিমটিম করে নিভে গেল। অন্ধকারে রাহুল একটা নারীকণ্ঠ শুনল,  

"আমার বেদনা কেউ বোঝেনি...তুমিও না!"** হঠাৎ নারীর করুণ কণ্ঠ কর্কশ হয়ে গেল। এক চিৎকারে রাহুল মেঝেতে পড়ে গেল। তার চোখের সামনে দেখতে পেল এক সাদা শাড়ি পরা মহিলা, যার মুখে রক্তাক্ত দাগ আর খোলা চুল বাতাসে ভাসছে। 

 তারপর? পরদিন সকালে গ্রামের লোকজন জমিদারবাড়ির সামনে রাহুলের ক্যামেরা আর লণ্ঠন পড়ে থাকতে দেখল। কিন্তু রাহুলকে আর কখনো খুঁজে পাওয়া গেল না। তবে সেই রাতের পর থেকে, জমিদারবাড়ির আশেপাশে কেউ গেলেই শোনা যায় একটা কণ্ঠস্বর। **"আমার শান্তি চাই...

Next Post Previous Post