ভুতের বাসরঘর

এক গ্রামে ছিল একটি পুরনো, ভাঙাচোরা বাড়ি। বাড়িটি খুবই সুনসান, রূক্ষ এবং অন্ধকার। গ্রামবাসীরা বলত, সেখানে কেউ রাতে থাকলে, অদ্ভুত আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়। কেউ কেউ আবার বলত, বাড়ির জানালা থেকে মাঝে মাঝে অদ্ভুত এক অন্ধকার ছায়া দেখা যায়। গ্রামের এক যুবক, রাহুল, এই গল্প শুনে খুব আগ্রহী হয়ে উঠেছিল। সে ঠিক করল, একদিন রাতে গিয়ে বাড়িটিতে খুঁজে দেখবে। রাতের আকাশ তখন পরিষ্কার, চাঁদও ঝকঝকে। রাহুলের সাহস ছিল অবিশ্বাস্য। সে এক হাতে লণ্ঠন নিয়ে আরেক হাতে মোবাইল নিয়ে পুরনো বাড়ির দিকে রওনা হল। বাড়ির কাছে পৌঁছাতে পেরে, রাহুল টের পায় যে বাড়িটির আশপাশে অদ্ভুত নীরবতা। কোন পাখি বা প্রাণী কিচ্ছু দেখা যাচ্ছিল না। সে বাড়ির দরজা ঠেলে খুলে ভিতরে ঢুকে পড়ে। বাড়ির ভেতর ভয়ানক শীতল বাতাস বইছিল, আর কাঠের ফটফট আওয়াজ হচ্ছিল। হঠাৎ, রাহুল এক অদ্ভুত ছায়া দেখতে পায়—একটি পুরানো সাদা সাড়ি পরা নারী শাঁস দিয়ে চলে যাচ্ছে। সে ভয় পেয়ে পিছনে যেতে চেষ্টা করে, কিন্তু পায়ের নিচে যেন মাটি সরে যায়। এক মুহূর্তের জন্য তার অনুভব হয়, কিছু যেন তাকে আঁকড়ে ধরছে। পেছনে ঘুরে তাকাতে সে দেখতে পায়, একটি বিকৃত মুখ তার দিকে তাকিয়ে রয়েছে। চোখ দুটি গা dark ়, কপাল চেপে গা dark ় হয়ে উঠেছে এবং হাসি ভঙ্গি এক অদ্ভুত, মর্মান্তিক চেহারা তৈরি করেছে। রাহুল দৌড়ে পালাতে চেষ্টা করলেও, দৌড়াতে পারছিল না। সে বুঝতে পারে, এই বাড়ির মধ্যে একটা ভুতের উপস্থিতি আছে, যেটি তাকে টেনে নিয়ে যাবে।
এরপর, রাহুল কিছুতেই বাড়ি থেকে বের হতে পারে না, যতবার সে দরজার দিকে এগোতে চায়, ততবার যেন কোনো শক্তি তাকে আবার পিছনে ফিরিয়ে দেয়। অবশেষে, রাহুল হঠাৎ শুনতে পায় একটি পুরনো কণ্ঠস্বর। "তুমি কি আমার জন্য এসেছো?" সে ভয় পেয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলেছিল, কিন্তু এক সময়ে সব কিছু থেমে যায়। পরের দিন সকালে গ্রামবাসীরা তাকে বাড়ির সামনে দেখতে পায়, কিন্তু রাহুল আর কথা বলতে পারেনি। তার চোখে এক ধরনের অদ্ভুত দৃষ্টি ছিল, যেন সে কিছু দেখেছে, কিন্তু আর কিছু মনে করতে পারছে না। বাড়িটি আজও সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ আর সেখান থেকে কাছে যেতে সাহস পায় না। এই গল্পটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কিছু জায়গা, কিছু ঘটনা, কখনো কখনো আমাদের কল্পনা ও বাস্তবতার মাঝে সীমানা তৈরি করতে পারে।
Next Post Previous Post