"শোণিত কুঠির অভিশাপ"

নিশীথ রাত। গভীর অন্ধকারে ঢাকা একটি গ্রাম, নাম কাঁকুরিয়া। গ্রামের মানুষরা বলে, সেখানে এক ভুতুড়ে বাড়ি আছে, যেটি বহু বছর ধরে জনমানবশূন্য। মানুষ বলে, সে বাড়ির নাম **শোণিত কুঠি**, কারণ সেখানে একসময় এক ধনী জমিদার তার সমস্ত পরিবারসহ নির্মমভাবে খুন হয়েছিল। সেই রাতের কথা আজও কাঁকুরিয়ার মানুষ ভুলতে পারেনি। জমিদার হরিদাস বাবু ছিলেন অত্যন্ত কঠোর এবং নিষ্ঠুর। প্রজাদের ওপর তার অত্যাচার ছিল সীমাহীন। তার স্ত্রী ও সন্তানরাও তার রাগের শিকার হত। একদিন, গ্রামের কিছু অসন্তুষ্ট প্রজা এবং জমিদারেরই এক ঘনিষ্ঠ দাস এক হয়ে পরিকল্পনা করে তাকে শেষ করার। শ্রাবণ মাসের এক অমাবস্যার রাতে, তারা জমিদারের পুরো পরিবারকে হত্যা করে। জমিদারের রক্তে পুরো কুঠি ভেসে গিয়েছিল। তাদের মৃতদেহ কুঠির ভেতরই পুঁতে রাখা হয়। কিন্তু যেটা কেউ জানত না, সেই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে জমিদারের আত্মা এবং তার পরিবারের অন্যদের আত্মা ওই কুঠিতেই আটকা পড়ে যায়। ### গল্প শুরু রহস্যের প্রতি আগ্রহী এক দল যুবক, যারা শহর থেকে ভ্রমণে এসেছিল, তারা এই শোণিত কুঠির গল্প শুনে বাড়িটা দেখতে গেল। তাদের নাম ছিল রাহুল, তাপস, অর্ণব, এবং সঞ্জু। গ্রামের লোকেরা অনেক বুঝিয়েছিল, কিন্তু তারা কারও কথা শোনেনি। তারা রাতে কুঠিতে প্রবেশ করল। কুঠির ভেতরে ঢোকার সাথে সাথে এক অদ্ভুত ঠাণ্ডা বাতাস তাদের গায়ে লাগল। মনে হল, যেন কেউ তাদের পেছনে নজর রাখছে। ভাঙা দরজা, ছাদ থেকে ঝুলে থাকা মাকড়সার জাল, আর ঘরের কোণায় জমে থাকা গাঢ় অন্ধকার- সব কিছুই যেন তাদেরকে চেপে ধরছিল। কিন্তু হঠাৎ, তারা শুনতে পেল একটি মৃদু হাসির আওয়াজ। সেই হাসি ধীরে ধীরে ভয়ানক আকার নিল। তারা চারপাশে তাকাতে লাগল, কিন্তু কিছু দেখতে পেল না। রাহুল একটি পুরনো টেবিলের ওপর একটি বই দেখতে পেল। বইটি খুলে দেখা মাত্রই ভেতর থেকে রক্তের দাগ বেরিয়ে আসতে লাগল। ভয় পেয়ে তারা সবাই দৌড়ে বেরোনোর চেষ্টা করল, কিন্তু দরজাটি নিজে থেকে বন্ধ হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর, তারা দেখতে পেল একটি কালো ছায়া, যা আস্তে আস্তে তাদের দিকে এগিয়ে আসছে। সেই ছায়া থেকে ভেসে এলো এক ভয়ঙ্কর কণ্ঠস্বর, "আমার শান্তি নষ্ট করেছ কেন?" কণ্ঠটি এতটাই ভয়ানক ছিল যে, তাপস মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। ছায়াটি ধীরে ধীরে জমিদার হরিদাসের আকৃতি নিল। তার রক্তমাখা মুখ, তীক্ষ্ণ চোখ আর হাতে একটি কুঠার ছিল। রাহুল সাহস করে বলল, "আমরা এখানে এসেছি কেবলমাত্র কৌতূহলের বশে। আমাদের দয়া করে ছেড়ে দিন।" কিন্তু জমিদার বলল, "যারা একবার শোণিত কুঠিতে প্রবেশ করেছে, তারা কখনও ফিরে যেতে পারে না।" এরপর, কী হয়েছিল তা কেউ জানে না। পরদিন সকালে, গ্রামের লোকেরা শোণিত কুঠির সামনে গিয়ে তাদের চারজনের রক্তমাখা পোশাক পড়ে থাকতে দেখে। কিন্তু তাদের দেহ আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। ### উপসংহার আজও কাঁকুরিয়া গ্রামের মানুষ রাতের বেলায় শোণিত কুঠির দিকে তাকায় না। অমাবস্যার রাতে সেই বাড়ি থেকে অদ্ভুত শব্দ এবং জমিদারের করুণ আর্তনাদ ভেসে আসে। কেউ কেউ বলে, যারা অযথা বাড়িটির কাছে যায়, তারা ফিরে আসে না। শোণিত কুঠি আজও অভিশপ্ত, আর জমিদার হরিদাসের আত্মা প্রতিশোধ নিতে অপেক্ষা করছে। **সতর্কবার্তা:** এই গল্পটি কেবল কল্পনা। তবে যদি কোনও ভুতুড়ে জায়গায় যান, সাবধান থাকুন।
Next Post Previous Post