শ্যামলীর মন্দিরের অভিশাপ
পাহাড়ঘেরা একটি ছোট গ্রাম, যার নাম **শ্যামলী**। এই গ্রামের দক্ষিণ প্রান্তে ছিল একটি পুরোনো মন্দির। মন্দিরটি বহু বছর ধরে পরিত্যক্ত। কেউ সেখানে যায় না, কারণ গ্রামের মানুষ বিশ্বাস করে, মন্দিরে এক ভয়ানক অভিশাপ রয়েছে।
কিন্তু রুদ্র, একজন শহরের সাংবাদিক, এসব কুসংস্কারে বিশ্বাস করত না। তার কাজই ছিল এমন রহস্যময় কাহিনিগুলো উন্মোচন করা। যখন সে শ্যামলীর গল্প শুনল, সে ঠিক করল যে এই মন্দিরে গিয়ে আসল সত্য বের করবে।
রুদ্র তার ক্যামেরা আর নোটবুক নিয়ে শ্যামলীতে পৌঁছায়। গ্রামের মানুষ তাকে মন্দিরে না যাওয়ার জন্য বারবার সতর্ক করে। তারা জানায়, বহু বছর আগে এক ব্রাহ্মণ পুরোহিত এই মন্দিরে পূজা করত। সেই পুরোহিত ছিল খুবই ক্ষমতাশালী। তার অমোঘ মন্ত্রশক্তি ছিল, কিন্তু তার অহংকারের কারণে দেবতারা তাকে অভিশাপ দেন। সেই থেকে মন্দিরটি অশুভ শক্তির দ্বারা আবিষ্ট।
মন্দিরের প্রথম রাত্রি
রুদ্র ভয় পায়নি। সে মন্দিরে প্রবেশ করল রাতের বেলা। চাঁদের আলো ঝাপসা, আর চারপাশ ছিল সম্পূর্ণ নীরব। মন্দিরটি বাইরে থেকে জীর্ণ ছিল, দেয়ালগুলোতে ফাটল, আর পাথরের মূর্তিগুলো অর্ধভগ্ন।
রুদ্র ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলতে শুরু করল। কিন্তু হঠাৎ তার মনে হলো, যেন কেউ তাকে অনুসরণ করছে। মন্দিরের ভেতরে ঢুকতেই সে অনুভব করল তীব্র শীতল বাতাস। ভিতরে বিশাল এক শিবলিঙ্গ, আর তার চারপাশে অনেক ভাঙা পাথরের টুকরো।
হঠাৎ করেই সে শুনতে পেল এক নারীর কণ্ঠস্বর—"তুমি এখানে কেন এসেছ?"
রুদ্র ঘুরে তাকাল, কিন্তু কেউ নেই। তার মন বলছিল, এটা তার কল্পনা। সে ক্যামেরা চালিয়ে জায়গাটির ভিডিও করতে শুরু করল। তবে, একসময় ক্যামেরার স্ক্রিনে সে স্পষ্ট দেখতে পেল একজন নারীর ছায়া।
নারীটির রহস্য
নারীটি আস্তে আস্তে সামনে এলো। তার চেহারা সাদা, চোখ দুটো গভীর লাল। সে বলল, "তুমি এখানে থাকার সাহস করেছ, তাই তোমাকে আমার কাহিনী শুনতেই হবে।"
নারীটি তার নাম জানায়—"কল্পনা"। বহু বছর আগে সে এই গ্রামের একজন সাধারণ মেয়ে ছিল। কিন্তু গ্রামের পুরোহিত তাকে বলি দেয়ার জন্য মন্দিরে নিয়ে আসে। সে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু পুরোহিতের মন্ত্রশক্তি তাকে আঘাত করে। তার মৃত্যুর পর থেকে তার আত্মা মন্দিরে আটকা পড়ে রয়েছে।
ভয়াবহ ঘটনা
কল্পনার কাহিনী শোনার পর রুদ্র ভাবল, সে এই সত্যটি পৃথিবীর সামনে আনবে। কিন্তু যতবারই সে মন্দির থেকে বের হতে চায়, ততবারই কিছু অদৃশ্য শক্তি তাকে ভেতরে টেনে নিয়ে যায়। সে বুঝতে পারল, মন্দিরের প্রেতাত্মারা তাকে মুক্তি দেবে না।
পরদিন সকালে গ্রামের লোকেরা দেখতে পেল, রুদ্র মন্দিরের সিঁড়ির ওপর অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। তার মুখ ফ্যাকাশে, আর চোখে ভয়।
রুদ্র এরপর আর কোনোদিন মন্দির নিয়ে কোনো কথা বলেনি। কিন্তু শোনা যায়, সেই মন্দিরে সে যা দেখেছে তা তার জীবনের দৃষ্টিভঙ্গি চিরতরে পাল্টে দিয়েছে।
