৭ নম্বর ওয়ার্ড

জেলা হাসপাতাল।

রাতের ডিউটি। বাইরে কুয়াশা, ভেতরে স্যানিটাইজারের গন্ধ।

নার্সরা বলে—
“৭ নম্বর ওয়ার্ড রাতে খালি রাখে।”

কিন্তু সেদিন বেড কম ছিল।
তোমাকে ৭ নম্বরে শিফট করা হলো।

ঘড়িতে রাত ২টা ৪৩।
হঠাৎ পাশের খালি বেডে শব্দ—
চাদর কাঁপছে।

তুমি উঠে বসলে
দেখলে—বেডে কেউ নেই।

ভাবলে বাতাস।
আবার শুয়ে পড়লে।

৫ মিনিট পর—
বেড মনিটরের ‘বিপ… বিপ…’ শব্দ।



কিন্তু ওই বেডে তো কেউ ভর্তি না।

তুমি নার্সকে ডাকতে যাবে, ঠিক তখনই কানের কাছে ফিসফিস—

— “আমার রিপোর্ট এসেছে?”

শরীর ঠান্ডা।

ধীরে ধীরে পাশে তাকালে…
বেডে একজন রোগী শুয়ে।

মুখে অক্সিজেন মাস্ক।
চোখ খোলা।
একদম তোমার দিকে তাকিয়ে।

তুমি চিৎকার করতে যাবে—
লাইট জ্বলে উঠল।

বেড খালি।
সব স্বাভাবিক।

সকালে নার্সকে বললে ঘটনাটা।

নার্স কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল—

“ওই বেডে কাল রাতেই একজন মারা গেছে।
শেষ কথা ছিল—
‘আমার রিপোর্ট এসেছে?’

আর সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপারটা জানো?

তোমার বেডের ফাইলের উপরে লাল কালি দিয়ে লেখা—

👉 রুম পরিবর্তন জরুরি।

Next Post Previous Post