সন্ধ্যা তখন ঘনিয়ে এসেছে। গ্রামের শেষপ্রান্তে রয়েছে এক বিশাল ঘন বন, যাকে সবাই বলে "অশুভ বন"। সেই বনে কেউ প্রবেশ করতে চায় না, কারণ লোকমুখে শোনা যায়, একবার কেউ প্রবেশ করলে আর ফিরে আসে না।
অর্ণব ও তার বন্ধুরা এই কাহিনি শুনে হেসে উড়িয়ে দিল। তারা ঠিক করল, আজ রাতেই তারা বনের ভিতর যাবে এবং নিজেরাই সত্যতা যাচাই করবে।
রাত বাড়তেই চারজন বন্ধুর দলটি বনের মধ্যে প্রবেশ করল। চারদিকে অদ্ভুত নিস্তব্ধতা, যেন সমস্ত প্রাণীরা আতঙ্কে চুপ হয়ে গেছে। তাদের টর্চের আলোয় গাছের ছায়াগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠছে। হঠাৎই একটা ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করল, আর বাতাসের সঙ্গে যেন শোনা গেল কারও চাপা হাসির শব্দ!
অর্ণব থমকে দাঁড়াল। সে চারদিকে তাকাল, কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। হঠাৎ করেই তার বন্ধুরা একের পর এক অদৃশ্য হয়ে যেতে লাগল! কেউ কিছু বলতে পারছে না, কেবল নিঃশব্দে হারিয়ে যাচ্ছে অন্ধকারের মধ্যে।
অর্ণব দৌড় দিল ফিরে আসার জন্য, কিন্তু পথ যেন বদলে গেছে। চারদিক কুয়াশায় ঢেকে গেল। সে দিশেহারা হয়ে পড়ল। হঠাৎ তার সামনে এক ছায়ামূর্তি আবির্ভূত হল। লম্বা, বিকৃত মুখ, চাহনি যেন শূন্যতার অতল গভীরে নিয়ে যেতে চায়।
সে কাঁপতে কাঁপতে পিছু হটতে লাগল, কিন্তু অনুভব করল, কেউ যেন তার ঘাড়ের উপর ঠান্ডা হাত রাখল। একটা চাপা কণ্ঠস্বর বলল, “তুমি কি এসেছো ফিরে যাওয়ার জন্য?”
পরদিন সকালে গ্রামবাসীরা শুনল, বনের কিনারায় পড়ে আছে অর্ণবের নিথর দেহ। তার চোখ দুটি বিস্ফারিত, মুখে জমাট বাঁধা আতঙ্ক। তার বন্ধুরা কেউই আর কখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি…
সেই রাতের পর থেকে বনে এক নতুন আওয়াজ শোনা যায়। বাতাসে ভেসে আসে ফিসফিসানি— “আরো কেউ আসবে কি?”
