গোলমালের অফিস
একটা ছোট্ট অফিসে কাজ করতেন তিন বন্ধু—রহিম, সোহেল এবং জামিল। তারা ছিল একে অপরের খুব ভালো বন্ধু, তবে তাদের কাজের প্রতি কোনো আগ্রহ ছিল না। তাদের প্রতিদিনের কাজ ছিল একে অপরকে মজা করা এবং সময় কাটানো।
একদিন, সোহেল অফিসে এসে দেখতে পেল রহিম একটা নতুন ডেক্সটপ কম্পিউটার কিনেছে। সোহেল হাসতে হাসতে বলল, “আরে ভাই, এটার কি দরকার? তুমি তো জানো, তোমার কম্পিউটার না চালিয়ে তুমি বেশি সময় আছো চা খেতে আর ফেসবুকে!”
রহিম হেসে বলল, “বাবা, এটা তোমার মতো আরেকজনের কাজ নয়! আমি এখন লেখালেখি শুরু করব। বড় বড় ব্লগ লিখব!”
সোহেল মুচকি হেসে বলল, “ওহ, তাহলে তোমার ব্লগ লিখতে কী প্রয়োজন? আমি তো মনে করি, তোমার আরও একটা কাজ ভালো হবে... 'কম্পিউটার চুরি'!”
এরপর জামিল এসে দাঁড়াল। জামিল ঘাড়ে হাত দিয়ে বলল, “এই সোহেল, তুমি কম্পিউটার চুরি বললে, কিন্তু জানো তো আমাদের অফিসে তো কোনো কাজই নেই। আসলে আমার তো মনে হয়, আমাদের সবার সেরা কাজ হবে 'কাজ না করা'!”
রহিম কিচ্ছু না বলে বলল, “ভাই, এখন আমার তো মাথা কাজ করতে চায় না, বরং তুমি দুজন আমার পাশে থাকলেই আমি কাজে মন দেব।”
এতক্ষণে সোহেল আর জামিল দুজনেই একসাথে বলল, “আচ্ছা, রহিম, তোমার ব্লগ লেখার জন্য আরও কি প্রয়োজন? কোনো পেন বা পেন্সিল চাই কি?”
রহিম মুচকি হেসে বলল, “না, আমি ব্লগ লিখতে পেন্সিল ব্যবহার করি না! আমি তো ভাবছি, কাগজেই লিখব! তোমরা কি জানো, ইন্টারনেটের জন্য কাগজও আর প্রয়োজন হয় না!”
সবশেষে, সোহেল, জামিল এবং রহিম একে অপরকে দেখে একসাথে হেসে উঠল। তারা বুঝতে পারল যে, আসলে অফিসের কাজ ছাড়াও বন্ধুদের সাথে মজা করাই সবচেয়ে বড় কাজ।
---
এই গল্পটি আসলে আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জীবনে যতই গুরুত্বপূর্ন কাজ থাকুক, মজা এবং হাসি আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ।

