অভিশপ্ত বন

 গভীর রাতে গ্রামের এক প্রান্তে ছিল পুরনো এক অভিশপ্ত বন। সেই বনে ঢোকার সাহস খুব কম লোকেরই ছিল, কারণ লোকমুখে শোনা যেত যে, ওখানে নাকি অসংখ্য অশরীরী আত্মার বাস। যে একবার ঢুকেছে, সে আর ফিরে আসেনি।


রাকেশ নামের এক যুবক শহর থেকে তার মামার বাড়ি বেড়াতে এসেছিল। গ্রামের পুরনো গল্প শুনে তার খুব কৌতূহল হলো। সে ঠিক করল, রাতে বনে যাবে এবং সত্যি কিছু আছে কি না তা দেখে আসবে।
রাত বারোটার সময়, হাতে টর্চ নিয়ে সে বনের দিকে পা বাড়াল।

 


 বন ছিল নিস্তব্ধ, মাঝে মাঝে পেঁচার ডাক আর পাতার মচমচ শব্দ ছাড়া কোনো আওয়াজ ছিল না। হঠাৎ অদ্ভুত এক কটু গন্ধ তার নাকে এলো, যেন পোড়া মাংসের গন্ধ। চারদিকে কালো ছায়া নড়াচড়া করছিল।


সে কিছুদূর যেতেই হঠাৎ বাতাস ঠান্ডা হয়ে গেল, যেন কেউ ফিসফিস করে তার নাম ধরে ডাকছে। হঠাৎ তার কাঁধে ঠান্ডা একটা হাতের স্পর্শ অনুভব করল। আতঙ্কে সে পেছন ফিরে দেখল, এক বিকৃত মুখ বিশিষ্ট ছায়ামূর্তি তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, যার ফাঁকা চোখের গহ্বর থেকে কালো ধোঁয়া বেরোচ্ছে।


রাকেশের গলা শুকিয়ে গেল, দেহ স্থির হয়ে গেল। মূর্তিটি ধীরে ধীরে তার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল, আর তার চারপাশে বাতাসের সঙ্গে করুণ আর্তনাদ মিশে যেতে লাগল। সে পেছাতে চাইল, কিন্তু পা যেন মাটির গভীরে ঢুকে গেছে।


মূর্তিটি বিকৃত কণ্ঠে বলল, "এখানে কেন এসেছ? তুমি কখনও ফিরে যেতে পারবে না!" কথাগুলো বলতেই তার কানে ভেসে এলো অসংখ্য মৃত আত্মার কান্নার শব্দ।


হঠাৎ প্রবল ঝড় উঠল, আর রাকেশ অনুভব করল, কেউ যেন তাকে টেনে নিচ্ছে মাটির গভীরে। অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ার ঠিক আগে সে বিকট হাসির শব্দ শুনল। সকালে গ্রামের লোকেরা তাকে বনের ধারে অজ্ঞান অবস্থায় খুঁজে পেল।

 তার শরীরে ছিল গভীর আঁচড়ের দাগ, আর কানে তখনও সেই ভয়ঙ্কর ফিসফিস আওয়াজ বাজছিল...
এরপর থেকে কেউ আর রাতবিরেতে সেই বনের দিকে যাওয়ার সাহস করেনি।

Next Post Previous Post