শহরের প্রান্তে অভিশপ্ত হাসপাতাল Part-2

শহরের এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা পুরনো হাসপাতালটা প্রায় দুই দশক ধরে বন্ধ। ভেতরে ঢুকতে সাহস পেত না কেউ। লোকমুখে শোনা যেত, এক রাতে অপারেশন থিয়েটারে এমন কিছু ঘটেছিল, যা সবার জীবনে কালো ছাপ ফেলে গিয়েছে। সেই রাতে হাসপাতালে রোগীদের আর্তনাদ নাকি আকাশে গুঞ্জরিত হয়েছিল। অনীক, একজন উদ্যমী তরুণ বিজ্ঞান ছাত্র, ভূত-প্রেতের গল্পে বিশ্বাস করত না। বন্ধুদের চ্যালেঞ্জ নিতে সে এক রাতের জন্য হাসপাতালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। রাত ১২টা। ঝড়ো বাতাসে হাসপাতালের জংধরা ফটকটা কাঁপছিল। টর্চ হাতে নিয়ে ভেতরে ঢুকল অনীক। হাসপাতালের করিডোরগুলো ছিল অন্ধকার আর ভাঙাচোরা। মেঝেতে ছড়িয়ে ছিল ধুলো জমা ফাইল, ভাঙা কাচ, আর পুরনো হাসপাতালের সরঞ্জাম। প্রথমেই তার মনে হল, যেন অদৃশ্য চোখগুলো তাকে লক্ষ্য করছে। হাঁটার সঙ্গে সঙ্গে তার পেছনে পায়ের চাপ শোনার মতো অনুভূতি হচ্ছিল। কিন্তু ফিরে তাকিয়ে দেখল, কেউ নেই। কিছুক্ষণ পরে সে পৌঁছাল সেই ber্যাপ্ত অপারেশন থিয়েটারে। দরজা ঠেলে ঢুকতেই তার মনে হল, ঘরের বাতাস আরও ভারী হয়ে গেছে। দেয়ালের গায়ে এখনও শুকনো রক্তের দাগ। অপারেশন টেবিলের ওপর রাখা ছিল ভাঙা চিকিৎসার যন্ত্রপাতি। হঠাৎ করেই পেছন থেকে একটা চাপা আওয়াজ এল—“আমায় সাহায্য করো… আমি এখনও এখানে…” অনীক ঘুরে দাঁড়াল। পুরো ঘর খালি, কিন্তু বাতাসে কাঁপা কাঁপা কান্নার সুর যেন ছড়িয়ে পড়ল। হঠাৎ করেই ঘরের একটি কোণে থাকা ভাঙা আয়নাটা নিজে থেকেই মাটিতে পড়ল। আয়নার ভাঙা টুকরোতে আলো পড়তেই অনীক দেখল তার পিছনে দাঁড়িয়ে আছে একজন নারী। তার সাদা পোশাক রক্তে ভেজা, আর তার মুখ ছিল অস্বাভাবিকভাবে বিকৃত। “তুমি আমাকে দেখতে এসেছো,” বলল মেয়েটি, আর তার গলা ছিল এতটাই শীতল যে অনীকের মেরুদণ্ড বেয়ে ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল। অনীক ভয়ে পেছনে সরে গেল। সে দরজার দিকে ছুটতে চাইল, কিন্তু দরজা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল। ঘরের প্রতিটি জানালা একসঙ্গে ভেঙে গেল, আর বাইরে থেকে হাড়কাঁপানো বাতাস ঘরে ঢুকে পড়ল। নারীমূর্তিটি এবার চিৎকার করে উঠল—“তুমি পালাতে পারবে না! এখানে কেউ আসে না, আর যারা আসে, তারা আর ফিরে যায় না!” মেয়েটি হঠাৎ করে মেঝে থেকে কয়েক ইঞ্চি ওপরে ভাসতে শুরু করল। তার চোখ থেকে গলগল করে কালো তরল বের হতে লাগল, আর ঘরের প্রতিটি কোণ থেকে অসংখ্য ছায়ামূর্তি বেরিয়ে এসে অনীককে ঘিরে ধরল। ছায়াগুলো ছিল বিভৎস—তাদের মুখ ছিল বিকৃত, আর চোখদুটো যেন আগুনের মতো জ্বলছিল। তারা একসঙ্গে বলল, “তোমার আত্মাও আমাদের হবে!” অনীক চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু তার গলা দিয়ে শব্দ বেরোল না। নারীমূর্তিটি তার দিকে এগিয়ে এসে হঠাৎই তার গলায় হাত রাখল। সেই স্পর্শ ছিল বরফের মতো ঠাণ্ডা। হঠাৎ করেই অনীক অনুভব করল, তার শরীর থেকে কিছু একটা টেনে নেওয়া হচ্ছে। তার চোখের সামনে ভেসে উঠল হাসপাতালে ঘটে যাওয়া বিভীষিকাময় অতীতের দৃশ্য—ডাক্তারদের নিষ্ঠুরতা, রোগীদের মৃত্যুযন্ত্রণা, আর নার্সের করুণ মৃত্যু। শেষ মুহূর্তে, নারীমূর্তিটি বিভৎসভাবে হাসতে হাসতে বলল, “তুমি এখন থেকে আমার!” পরদিন সকালে, পুলিশ হাসপাতালে অনীকের দেহ খুঁজে পেল। তার মুখ ছিল বিকৃত, আর তার ঠোঁটের কোণে ছিল এক অদ্ভুত হাসি। ক্যামেরায় রেকর্ড হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছিল, অনীকের দিকে এগিয়ে আসছে এক বিকৃত নারীমূর্তি। ভিডিওর শেষে একটিমাত্র ফিসফিসানি শোনা গেল—“আর কেউ বাঁচবে না...”
Next Post Previous Post