**শহরের প্রান্তে পরিত্যক্ত হাসপাতাল** Part-1
নগরীর এক প্রান্তে, জঙ্গলের ধারে ছিল এক পরিত্যক্ত হাসপাতাল। কেউ জানত না, কেন সেটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। মানুষের মুখে মুখে শোনা যেত, একদিন হাসপাতালে অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটেছিল। সেদিন থেকে নাকি ওই জায়গা অভিশপ্ত হয়ে গেছে। রাতে হাসপাতালের জানালা দিয়ে ভেসে আসত আর্তনাদ, হাসি আর করুণ কণ্ঠের গান।
তরুণ বিজ্ঞান ছাত্র অনীক ভূত-প্রেতের গল্পে বিশ্বাস করত না। তাই বন্ধুদের চ্যালেঞ্জ নিতে সে ঠিক করল, সেই হাসপাতালে একটা রাত কাটাবে। সঙ্গে নিল শুধু একটা টর্চ আর তার স্মার্টফোন।
রাতে হাসপাতালের ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনে ঢুকতেই শীতল বাতাস তার শরীর ছুঁয়ে গেল। দেয়ালের গায়ে শ্যাওলা জমে ছিল, আর মেঝেতে ছড়িয়ে ছিল পুরনো ডাক্তারি সরঞ্জাম। হঠাৎই করিডোর থেকে একটা ঠুং ঠুং শব্দ শোনা গেল। অনীক মনে মনে নিজেকে বলল, “এটা ইঁদুর হতে পারে। ভয় পাওয়ার কিছু নেই।”
করিডোরের শেষ প্রান্তে ছিল একটি অপারেশন থিয়েটার। দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকল অনীক। তার টর্চের আলো ফেলে দেখল, ভাঙা টেবিল, ঝুলে থাকা সার্জারির সরঞ্জাম আর মেঝেতে রক্তের শুকিয়ে যাওয়া দাগ।
ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা চাপা আওয়াজ এল—**“আমায় বাঁচাও…”**
অনীক মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়াল। পেছনে কেউ ছিল না। সে মনে করল, হয়তো তার মনের ভুল। কিন্তু যখনই সে অপারেশন থিয়েটারের ভাঙা আয়নায় তাকাল, দেখতে পেল নিজের পিছনে দাঁড়িয়ে আছে এক নারীর ছায়া। নারীর সাদা পোশাক রক্তে ভেজা, আর চোখদুটো ফ্যাকাশে।
অনীক ভয়ে ঘামতে ঘামতে ঘুরে দাঁড়াল। কিন্তু ছায়াটি আর সেখানে ছিল না। হঠাৎ করেই দরজা নিজে থেকে বন্ধ হয়ে গেল। ঘরের মধ্যে বাতাস ভারী হয়ে এল, আর চারপাশে ভেসে উঠল কান্নার আওয়াজ।
“তুমি আমাকে দেখতে এসেছ, তাই না?”—একটা শীতল কণ্ঠ শোনা গেল।
অনীক দেখল, নারীমূর্তিটি এবার তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখদুটো গভীর খালি গর্তের মতো, আর ঠোঁটের কোণে বিভৎস হাসি। “তুমি জানো না, আমার কষ্ট কেমন…”—বলেই নারীর হাত বাড়িয়ে দিল।
হাতটা ছিল পাথরের মতো শক্ত। নারীর স্পর্শ পেতেই অনীক অনুভব করল, তার শরীর থেকে কিছু একটাকে টেনে নেওয়া হচ্ছে। তার চোখের সামনে ভেসে উঠল হাসপাতালের পুরনো দিনগুলোর দৃশ্য—ডাক্তারের নিষ্ঠুরতা, রোগীদের চিৎকার, আর নার্সের মর্মান্তিক মৃত্যু।
“তুমি আমার কষ্ট বুঝবে না। তাই এবার তুমি আমার জগতে থাকবে,” নারীমূর্তিটি চিৎকার করে উঠল। ঘরের জানালা-দরজা কাঁপতে শুরু করল। অনীক চিৎকার করে বেরিয়ে আসতে চাইল, কিন্তু দরজা খুলল না।
তারপর... হাসপাতাল নীরব হয়ে গেল।
পরদিন সকালে, পুলিশ অনীকের মৃতদেহ হাসপাতালের বাইরে পেল। তার চোখ ছিল খোলা, আর ঠোঁটের কোণে ছিল এক ফোঁটা শুকনো রক্ত। স্মার্টফোনে তার শেষ ভিডিওতে শোনা যাচ্ছিল নারীর ফিসফিসানি—**“আরেকটা আত্মা আমার হলো। তুমি পালাতে পারবে না।”**
